সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য পরিচয়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীর বাসায় ঢুকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা বিএম ইব্রাহিম ওরফে ‘তালা ইব্রাহিমকে’ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
ইব্রাহিম ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন অভিযোগে তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।
মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ আরো কয়েকটি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির বাসায় তালা মেরে টাকা আদায়ের অভিযোগ থাকায় ঢাকা উদ্যান এলাকায় তিনি ‘তালা ইব্রাহিম’ নামে পরিচিত হন।
চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেফতার: মোহাম্মদপুর থানায় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ব্যবসায়ী জাহিদ হাসান ইব্রাহিমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করেন। মামলায় ইব্রাহিমের পাশাপাশি দীপক নামে আরেকজনকে আসামি করা হয়। এ ছাড়া ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছরের ৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ৭ নম্বর সড়কে জাহিদ হাসানের বাসায় ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল প্রবেশ করে। তারা নিজেদের সেনাবাহিনী ও র্যাবের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। সাদা পোশাকে থাকা ওই ব্যক্তিদের কয়েকজনের হাতে ওয়াকিটকি ছিল।
এজাহারে বলা হয়, বাসায় থাকা লোকজনকে জিম্মি ও মারধর করে ওই ব্যক্তিরা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে তারা জাহিদ হাসানের কাছ থেকে ৪৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং বাকি টাকা দেওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। বাসায় থাকা আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও ১২ হাজার টাকা ও জাহিদ হাসানের হাতঘড়ি নিয়ে নেওয়া হয়।
তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় জাহিদ হাসান কৌশলে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশকে ফোন করে বিষয়টি জানান। বিষয়টি বুঝতে পেরে ইব্রাহিমসহ অন্যরা বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে বাসা থেকে চলে যায়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করে। সাক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে আশপাশের লোকজনকে ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিদের দেখানো হলে তারা ইব্রাহিম ও দীপককে শনাক্ত করেন বলে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। পরে তাদের নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে মামলা করা হয়।
তদন্তে গ্রেফতার: পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটির তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযান চালিয়ে ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্য মামলাগুলোর তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা রয়েছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৮/৯/২০২৬