গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নেপালের বন্যা-ধসে মৃত্যু বেড়ে ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় এক হাজার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:১১ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০০:২৭ এএম ২০২৬
নেপালের বন্যা-ধসে মৃত্যু বেড়ে ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় এক হাজার
ছবি

ছবি রয়টার্স

নেপালের তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল পর্যন্ত ৯৭৭ জন নিখোঁজ বা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন রয়েছেন। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস জানিয়েছে, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৯০ হাজারের বেশি মানুষ।

গত বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি রাসুয়া জেলার তিমুর ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক ও শক্তিশালী বন্যা দেখা দেয়। পানির সঙ্গে বিপুল কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে নদীতীরের জনপদ তছনছ করে দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, সেতু, ভবনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে বন্যার স্রোত ত্রিশূলী নদীতে গিয়ে পড়ে।

প্রবল স্রোতে মানুষ, যানবাহন ও স্থাপনা ভেসে যায়। নদীর স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে বহু দূরের ভাটির বিভিন্ন জেলায় পৌঁছে যায়। রাসুয়া ছাড়াও নুয়াকোট, ধাদিং, গোরখা, তানাহুন, চিতওয়ান ও নবলপরাসিতে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি ২২১ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। নবলপরাসী পূর্বে ১৩৪, গোর্খায় ৪৬, নুয়াকোটে ৩৭, ধাদিংয়ে ৩৩, তানাহুনে ২৮, নবলপরাসী পশ্চিমে ২৭ এবং রাসুয়ায় ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে রাসুয়ায় ৪৩, নুয়াকোটে ২৭ এবং ধাদিংয়ে তিনজন রয়েছেন।

নিখোঁজ ৯৭৭ জনের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া ১২৭ জন অনাবাসী নেপালি এবং বিভিন্ন সরকারি তালিকায় থাকা আরো ২২৮ জনের নাম রয়েছে। নিরাপত্তা ও সরকারি দায়িত্বে থাকা ১০৫ জনও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫, পুলিশের ২৮, কাস্টমস কার্যালয়ের ১৫, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ এবং অভিবাসন কার্যালয়ের চারজন রয়েছেন। তবে নিখোঁজের তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়।

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যাকবলিত রাসুয়া থেকে ১১৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৮৫ জন ভারতীয়, ১৬ জন চীনা, নয়জন দক্ষিণ কোরীয়, দুজন মার্কিন ও দুজন ইতালীয় নাগরিক। আরো তিনজনের জাতীয়তা নিশ্চিত করা যায়নি।

উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযানে নেপালি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৪ হাজার ৮২৯ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। হেলিকপ্টারে ৩ হাজার ৭৪২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ কাজে সেনাবাহিনী ও বেসরকারি পরিচালকেরা মিলে ৭৮টি উড্ডয়ন পরিচালনা করেছেন।

তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্ত করা নতুন সংকট তৈরি করেছে। চিতওয়ানে হাসপাতালগুলোর মর্গে একসঙ্গে ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখার সক্ষমতা থাকায় একটি অব্যবহৃত ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্রে রূপান্তর করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব হবে।

নবলপরাসী পূর্বেও মর্গের জায়গা সংকুলান না হওয়ায় মরদেহ পোখারা, বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া ও পালপায় পাঠানো হয়েছে। কাওয়াসোটির একটি কমিউনিটি ফরেস্ট হলও অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পোখারায় তানাহুন, গোরখা, নবলপরাসী পূর্ব ও ধাদিং থেকে ৯৩টি মরদেহ নেওয়া হয়েছে। কাসকি জেলার হাসপাতালগুলোর সম্মিলিত মর্গের ধারণক্ষমতাও ছাড়িয়ে গেছে।

মরদেহ শনাক্ত করতে পুলিশ ছবি, আঙুলের ছাপ ও ময়নাতদন্তের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। নমুনা পরীক্ষার জন্য কাঠমান্ডুর সংশ্লিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হচ্ছে। শনাক্ত করা সম্ভব না হলে নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী নিরাপদ স্থানে মরদেহ দাফন করা হবে এবং প্রতিটি মরদেহের পরিচিতি নম্বর ও দাফনের তথ্য সংরক্ষণ করা হবে।

এদিকে ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে চীনের তিব্বত অংশে দুটি নদীর মিলনস্থলের কাছে বড় হ্রদ তৈরি হওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শুক্রবার বাঁধ উপচে পড়ার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় এবং নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সরকার রাসুয়া ও নুয়াকোটকে এক কোটি নেপালি রুপি করে এবং ধাদিংকে ৫০ লাখ রুপি নগদ সহায়তা দিয়েছে। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ৩০টি ট্রাক ও চারটি বিমান কার্গো চালান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী ও সব মন্ত্রীর এক মাসের বেতন ও পারিশ্রমিক প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভারত অতিরিক্ত মানবিক সহায়তা পাঠাচ্ছে। এর আগে দুটি চালানে ৪৭ টনের বেশি ত্রাণ পাঠানোর পর আরো ১২ টন ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। যুক্তরাষ্ট্রও পাঁচ লাখ ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় একজন পরামর্শক পাঠানোর কথা জানিয়েছে।

জীবিতদের উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের পাশাপাশি মরদেহ শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ ও স্বজনদের কাছে হস্তান্তর এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু উদ্ধারকাজকে কঠিন করে তুলেছে। একই সঙ্গে ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় নতুন করে পানির প্রবাহ বাড়ে কি না, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, সিজেপির দুই নেতা পাঁচ দিনের হেফাজতে
১৪ অক্টোবর ২০২৬

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, সিজেপির দুই নেতা পাঁচ দিনের হেফাজতে

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের ঘটনায় গ্রেফতার ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি...

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে অস্ত্রোপচারের খবরে পোপকে ঘিরে উদ্বেগ
১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফুসফুসের ক্যানসার নিয়ে অস্ত্রোপচারের খবরে পোপকে ঘিরে উদ্বেগ

ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ চতুর্দশ লিওর ফুসফুসে ক্যানসার শনাক্ত এবং অস্ত্রোপচারের...

১৫ বছরে চাকরি পাবে না ৮০ কোটি তরুণ, ইউএনডিপির সতর্কর্তা
১৪ অক্টোবর ২০২৬

১৫ বছরে চাকরি পাবে না ৮০ কোটি তরুণ, ইউএনডিপির সতর্কর্তা

আগামী ১৫ বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোর শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া প্রায় ১২০ কোটি তরুণের মধ্যে ৮০ কোটিই ক...

কলোনিতে আড়াই মাস পানিসংকট, জাতিসংঘে তৃণমূল নেতার চিঠি
১৪ অক্টোবর ২০২৬

কলোনিতে আড়াই মাস পানিসংকট, জাতিসংঘে তৃণমূল নেতার চিঠি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার জ্যোতিনগর কলোনিতে দুই মাসের বেশি সময় ধরে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকার অভিযোগ উ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 21 ঘন্টা আগে