গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষিতে বিপর্যয়

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১০:২২ এএম ২০২৬
ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষিতে বিপর্যয়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পাবনায় তীব্র লোডশেডিং ও ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিললেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব জেলার কৃষিখাতে পড়েনি বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

প্রতিদিন ভোর থেকে জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন পাম্পে বড় বোতল ও পাত্র নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালেও অনেক কৃষকই কাঙ্ক্ষিত ডিজেল পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে খরার সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চর সদিরাজপুরের কৃষক রতন হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তিনি ডিজেল পাননি। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানান। এতে তার কৃষিকাজ ও যানবাহন চালানো দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।

ভাঁড়ারা গ্রামের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, শ্যালো ইঞ্জিন ও ট্রাক্টর চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ধান ও পাট আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমিতে সেচ না দেওয়ায় ফসলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলার সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ প্রকল্প থাকলেও অধিকাংশ খাল অকেজো হয়ে পড়ায় কৃষকরা আবারো ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে খরচ বেড়েছে এবং সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

সাঁথিয়া উপজেলার বাওইকোলা গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে ধান ছাড়াও তিল, পাট ও সবজি আবাদে ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ফলে একই সঙ্গে ডিজেল ও বিদ্যুৎ-দুই দিকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

চাটমোহর উপজেলার এক কৃষক জানান, গত কয়েক সপ্তাহের লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা কমলেও ডিজেল সংকট থাকায় সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, কিছু এলাকায় লোডশেডিং কমানো হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সীমিত সংকট থাকলেও কৃষকেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল পাচ্ছেন এবং ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষকের পরিচয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় প্রকৃত কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৮/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

কৃষিজমিতে খাদ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগান্তকারী সমাধান সৌর প্যানেল
১৬ আগস্ট ২০২৬

কৃষিজমিতে খাদ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগান্তকারী সমাধান সৌর প্যানেল

জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, কৃষিজমির সংকোচন ও জ্বালানির চাহিদা- এ চারটি বড় চ্যালেঞ্জ আজ ব...

গ্রামবাংলার চেনা জীবন টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে ‘হাঁসের রাজ্য’
১৬ আগস্ট ২০২৬

গ্রামবাংলার চেনা জীবন টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে ‘হাঁসের রাজ্য’

ঢাকা ও গাজীপুরের মাঝামাঝি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ টঙ্গী। উত্তরার আব্দুল্লাহপুর সেতু পার হলেই শুরু টঙ্গীর ব...

জলাবদ্ধতায় শতাধিক একর জমিতে সবজির পচনে বিপাকে কৃষক
১৬ আগস্ট ২০২৬

জলাবদ্ধতায় শতাধিক একর জমিতে সবজির পচনে বিপাকে কৃষক

পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা ১৫ দিন ধরে থেমে থেমে আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে শত শত একর...

দিনে ৫০-৬০ আঁটি আঁশ ছাড়িয়ে অর্ধেক পাটখড়ি পান শ্রমিক
১৬ আগস্ট ২০২৬

দিনে ৫০-৬০ আঁটি আঁশ ছাড়িয়ে অর্ধেক পাটখড়ি পান শ্রমিক

মাগুরায় পানিতে জাগ দেওয়া পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 15 ঘন্টা আগে