গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষিতে বিপর্যয়

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

জেলা প্রতিনিধি, পাবনা

প্রকাশিত: ১২:১৬ পিএম, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪৬ এএম ২০২৬
ডিজেল সংকট ও লোডশেডিংয়ে কৃষিতে বিপর্যয়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

পাবনায় তীব্র লোডশেডিং ও ডিজেল সংকটে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির খবরে জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিললেও তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব জেলার কৃষিখাতে পড়েনি বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

প্রতিদিন ভোর থেকে জেলা ও উপজেলা শহরের বিভিন্ন পাম্পে বড় বোতল ও পাত্র নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ালেও অনেক কৃষকই কাঙ্ক্ষিত ডিজেল পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন, তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। ফলে খরার সময়ে জমিতে প্রয়োজনীয় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

চর সদিরাজপুরের কৃষক রতন হোসেন জানান, কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন পাম্পে ঘুরেও তিনি ডিজেল পাননি। ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়েছে বলে তিনি জানান। এতে তার কৃষিকাজ ও যানবাহন চালানো দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।

ভাঁড়ারা গ্রামের কৃষক কামরুল হাসান বলেন, শ্যালো ইঞ্জিন ও ট্রাক্টর চালাতে প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ধান ও পাট আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জমিতে সেচ না দেওয়ায় ফসলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলার সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেচ প্রকল্প থাকলেও অধিকাংশ খাল অকেজো হয়ে পড়ায় কৃষকরা আবারো ডিজেলচালিত শ্যালো ইঞ্জিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এতে খরচ বেড়েছে এবং সংকট আরো তীব্র হয়েছে।

সাঁথিয়া উপজেলার বাওইকোলা গ্রামের কৃষক হাসান আলী জানান, প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে। এতে ধান ছাড়াও তিল, পাট ও সবজি আবাদে ক্ষতি হচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা। ফলে একই সঙ্গে ডিজেল ও বিদ্যুৎ-দুই দিকেই ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

চাটমোহর উপজেলার এক কৃষক জানান, গত কয়েক সপ্তাহের লোডশেডিং পরিস্থিতি কিছুটা কমলেও ডিজেল সংকট থাকায় সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়নি।

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানায়, কিছু এলাকায় লোডশেডিং কমানো হয়েছে এবং বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক রয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, সীমিত সংকট থাকলেও কৃষকেরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল পাচ্ছেন এবং ধান কাটার সময় ঘনিয়ে আসায় বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি কৃষকের পরিচয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় প্রকৃত কৃষকদের ভোগান্তি বাড়ছে। এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।
সানা/আপ্র/২৮/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান
২৮ এপ্রিল ২০২৬

হাওরে তলিয়ে যাচ্ছে পাকা ধান

টানা দুই দিনের বৃষ্টি, তুফান ও বজ্রপাতে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে পাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক...

হাওরে ধান বিক্রিতে নতুন জুলুম ৪৫ কেজিতে মণ
২৬ এপ্রিল ২০২৬

হাওরে ধান বিক্রিতে নতুন জুলুম ৪৫ কেজিতে মণ

নেত্রকোনার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুম এখন পুরোদমে চললেও কৃষকদের মুখে নেই স্বস্তি। প্র...

মেহেরপুরে পুঁইশাকের বীজ উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা
১৭ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরে পুঁইশাকের বীজ উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

মেহেরপুরে বাড়ছে পুঁইশাকের বীজ উৎপাদন। জেলার তিনটি উপজেলার কৃষকরা এখন সবজি চাষের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভা...

নতুন সরকারের সামনে কৃষি এখন নীতিগত পরীক্ষার ক্ষেত্র
০৮ মার্চ ২০২৬

নতুন সরকারের সামনে কৃষি এখন নীতিগত পরীক্ষার ক্ষেত্র

কৃষি শুধু একটি অর্থনৈতিক খাত নয়; দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও সামাজিক স্থি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই