গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

মেনু

কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর আবাসিক হোটেল

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০০ পিএম, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ০২:৪৫ এএম ২০২৬
কোরবানির ঈদ ঘিরে গরুর আবাসিক হোটেল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে রংপুর নগরের বারো আউলিয়া এলাকায় গড়ে ওঠা গরুর আবাসিক হোটেলে এখন উপচে পড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরু ব্যবসায়ীদের কাছে এ হোটেল হয়ে উঠেছে আস্থার জায়গা। নিরাপদে গরু রাখা, পরিচর্যা ও সুবিধাজনক সময়ে পরিবহনের সুযোগ থাকায় প্রতিদিন শত শত গরু এখানে রাখা হচ্ছে।

গরুর আবাসিক হোটেলটির উদ্যোক্তা আশানুর ইসলাম। ছোটবেলা থেকে বাবা আনছার আলীর সঙ্গে হাটে গিয়ে গরু কেনাবেচার অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর মাথায় এ উদ্যোগের ভাবনা আসে। তিনি দেখতেন, হাট থেকে গরু কেনার পর ব্যবসায়ীরা নিরাপদে রাখার জায়গা না পেয়ে বিপাকে পড়তেন। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা তীব্র রোদে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ত, কখনো হঠাৎ মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটত। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো।

এই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রায় ১০ বছর আগে বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে গরুর আবাসিক হোটেল চালু করেন আশানুর। শুরুতে মডার্ন মোড়ের পাশে থাকলেও দেড় বছর আগে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ডানপাশে প্রায় ৫০ শতক জমি ভাড়া নিয়ে বড় পরিসরে হোটেলটি স্থানান্তর করা হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টিনের শেডের নিচে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে গরু। ভেতরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রয়েছে। গরুর মাথার ওপর ঘুরছে বৈদ্যুতিক পাখা। শ্রমিকেরা নিয়মিত খাবার দিচ্ছেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। গরুর জন্য খড় ও ভুসিরও আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আশানুর ইসলাম জানান, প্রতিদিন রংপুর ও আশপাশের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীরা রাতে এখানে রাখেন। সাধারণ সময়ে গরুপ্রতি ৫০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে চাপ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে ১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা রংপুরের শঠিবাড়ি, লালবাগ, বেদগাড়ি, বুড়িরহাট, পাওটানা ও লালমনিরহাটের বড়বাড়িসহ বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনছেন। কিছু গরু তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাকে পাঠানো হলেও বাকিগুলো রাখা হচ্ছে এই আবাসিক হোটেলে।

হোটেলটির দেখাশোনায় রয়েছেন আশানুর ইসলামের বাবা আনছার আলী, ছোট ভাই শাহিন মিয়া ও ভগ্নিপতি আলাল মিয়া। শাহিন মিয়া বলেন, ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নিরাপত্তাকে। সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে তাঁরা সতর্ক রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো গরু হারিয়ে যাওয়া বা অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রামের গরু ব্যবসায়ী সুরুজ মিয়া বলেন, আগে গরু কেনার পর পরিবহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। অতিরিক্ত টানাটানিতে গরু ক্লান্ত হয়ে পড়ত। এখন আবাসিক হোটেলে রেখে সুবিধাজনক সময়ে পরিবহন করা যাচ্ছে। আরেক ব্যবসায়ী এমদাদ হোসেন বলেন, এই হোটেলকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে এবং প্রয়োজনে তাঁরা একে অন্যকে আর্থিক সহযোগিতাও করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, এটি একটি ভালো উদ্যোগ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে এখানে রাখছেন। পরে পর্যাপ্ত গরু হলে সেগুলো গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে গরু কম ক্লান্ত হচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরাও স্বস্তি পাচ্ছেন।
সানা/আপ্র/২০/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

কৃষিজমিতে খাদ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগান্তকারী সমাধান সৌর প্যানেল
১৬ আগস্ট ২০২৬

কৃষিজমিতে খাদ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগান্তকারী সমাধান সৌর প্যানেল

জলবায়ু পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, কৃষিজমির সংকোচন ও জ্বালানির চাহিদা- এ চারটি বড় চ্যালেঞ্জ আজ ব...

গ্রামবাংলার চেনা জীবন টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে ‘হাঁসের রাজ্য’
১৬ আগস্ট ২০২৬

গ্রামবাংলার চেনা জীবন টঙ্গীর পশু-পাখির হাটে ‘হাঁসের রাজ্য’

ঢাকা ও গাজীপুরের মাঝামাঝি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ টঙ্গী। উত্তরার আব্দুল্লাহপুর সেতু পার হলেই শুরু টঙ্গীর ব...

জলাবদ্ধতায় শতাধিক একর জমিতে সবজির পচনে বিপাকে কৃষক
১৬ আগস্ট ২০২৬

জলাবদ্ধতায় শতাধিক একর জমিতে সবজির পচনে বিপাকে কৃষক

পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা ১৫ দিন ধরে থেমে থেমে আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এতে তলিয়ে গেছে শত শত একর...

দিনে ৫০-৬০ আঁটি আঁশ ছাড়িয়ে অর্ধেক পাটখড়ি পান শ্রমিক
১৬ আগস্ট ২০২৬

দিনে ৫০-৬০ আঁটি আঁশ ছাড়িয়ে অর্ধেক পাটখড়ি পান শ্রমিক

মাগুরায় পানিতে জাগ দেওয়া পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই