গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত প্রয়োজন

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ১৯:১৮ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:৫৩ এএম ২০২৬
মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত প্রয়োজন
ছবি

মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত প্রয়োজন

একবিংশ শতাব্দীতেও মানবপাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ মানবসভ্যতার কপালে এক কলঙ্কের তিলক হয়ে বিঁধে আছে। এটি কেবল কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রতি এক মারাত্মক হুমকি। উন্নত জীবনের মিথ্যা স্বপ্ন, লোভনীয় চাকরির প্রলোভন কিংবা অভাবের সুযোগ নিয়ে চক্রগুলো নারী, শিশুসহ সহজ-সরল মানুষকে পাচার করে দিচ্ছে নরকে। দেশের সীমানা পেরিয়ে এই অন্ধকার জালের বিস্তার মানবসমাজকে আজ এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে- যার বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

বলা বহুল্য, মানবপাচারের ভয়াবহ রমরমা ব্যবসার পেছনে মূলত কাজ করে সামাজিক অসচেতনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, তীব্র দারিদ্র্য ও অপরাধচক্রের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে কর্মহীন ও অসহায় সব মানুষ দালালদের খপ্পরে খুব সহজেই পড়ে যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কিছু ক্ষেত্রে তদারকির অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়- যা এই অপরাধের শিকড় আরো গভীরে প্রোথিত করতে সাহায্য করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের অংশ হিসেবে পাচারকারীরা মানবজীবনকে পণ্যে পরিণত করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছে- যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও চরম ক্ষতিকর।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কঠোর সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল একটি মানবপাচারমুক্ত নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। এই অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে- যাতে কোনো অপরাধীই আইনি ফাঁকফোকর গলে শাস্তি এড়াতে না পারে। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে। তবে কেবল প্রশাসনিক কঠোরতাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে- যাতে কেউ লোভনীয় প্রলোভনে পা না দেয়। গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। তাই আমদের প্রত্যাশা, মানবপাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত করবে সরকার।

কেএমএএ/আপ্র/৩০.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শুধু হুঁশিয়ারি নয়, হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধে চাই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু হুঁশিয়ারি নয়, হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধে চাই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা

সরকারি হাসপাতাল মানুষের শেষ ভরসা। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ে অসুস্থ মানুষ যখন সর...

৯/১১-এর ২৫ বছরে যুদ্ধ বেড়েছে, সন্ত্রাসের শিকড় কি কেটেছে?
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯/১১-এর ২৫ বছরে যুদ্ধ বেড়েছে, সন্ত্রাসের শিকড় কি কেটেছে?

২৫ বছর আগে ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা শুধু যুক্তরাষ্ট্রকে নয়, বদলে দিয়েছিল গোটা বিশ্বের ন...

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সহমর্মিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা দরকার

প্রতি বছর ১০ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস’। বর্তমান সময়ে আত্মহত্যার মতো একটি স...

শত পুলিশেও নিরাপত্তা নেই—এ কোন চাঁদাবাজির দুঃসাহস
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শত পুলিশেও নিরাপত্তা নেই—এ কোন চাঁদাবাজির দুঃসাহস

চট্টগ্রামে এক চিকিৎসকের কাছে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসীর পরিচয়ে প্রথমে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নির্ধারিত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে