গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মেনু

মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত প্রয়োজন

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

খান মুহঃ আশরাফুল আলম

প্রকাশিত: ১৯:১৮ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৪ এএম ২০২৬
মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত প্রয়োজন
ছবি

মানবপাচার রোধে আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত প্রয়োজন

একবিংশ শতাব্দীতেও মানবপাচারের মতো ঘৃণ্য অপরাধ মানবসভ্যতার কপালে এক কলঙ্কের তিলক হয়ে বিঁধে আছে। এটি কেবল কোনো সাধারণ অপরাধ নয়, বরং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার প্রতি এক মারাত্মক হুমকি। উন্নত জীবনের মিথ্যা স্বপ্ন, লোভনীয় চাকরির প্রলোভন কিংবা অভাবের সুযোগ নিয়ে চক্রগুলো নারী, শিশুসহ সহজ-সরল মানুষকে পাচার করে দিচ্ছে নরকে। দেশের সীমানা পেরিয়ে এই অন্ধকার জালের বিস্তার মানবসমাজকে আজ এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে- যার বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

বলা বহুল্য, মানবপাচারের ভয়াবহ রমরমা ব্যবসার পেছনে মূলত কাজ করে সামাজিক অসচেতনতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, তীব্র দারিদ্র্য ও অপরাধচক্রের সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে কর্মহীন ও অসহায় সব মানুষ দালালদের খপ্পরে খুব সহজেই পড়ে যায়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কিছু ক্ষেত্রে তদারকির অভাব ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যায়- যা এই অপরাধের শিকড় আরো গভীরে প্রোথিত করতে সাহায্য করছে। আন্তর্জাতিক অপরাধের অংশ হিসেবে পাচারকারীরা মানবজীবনকে পণ্যে পরিণত করে অবৈধ অর্থ উপার্জন করছে- যা দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও চরম ক্ষতিকর।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও কঠোর সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমেই কেবল একটি মানবপাচারমুক্ত নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব। এই অভিশাপ থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রথমত, মানবপাচার প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে- যাতে কোনো অপরাধীই আইনি ফাঁকফোকর গলে শাস্তি এড়াতে না পারে। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরো জোরদার করতে হবে। তবে কেবল প্রশাসনিক কঠোরতাই যথেষ্ট নয়; এর পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে- যাতে কেউ লোভনীয় প্রলোভনে পা না দেয়। গণমাধ্যম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করে মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। তাই আমদের প্রত্যাশা, মানবপাচার রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ দ্রুত নিশ্চিত করবে সরকার।

কেএমএএ/আপ্র/৩০.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

শিশুস্বাস্থ্যের সঙ্গে মুনাফার নির্মম আপস আর নয়
৩০ জুলাই ২০২৬

শিশুস্বাস্থ্যের সঙ্গে মুনাফার নির্মম আপস আর নয়

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি পরিবার বছরের পর বছর ধরে যে শিশুপণ্যকে নিরাপত্তা, কোমলতা ও মাতৃত্বের আস্থার প্রতী...

শিক্ষকের জীবনেও থাকুক স্বাভাবিকতার স্বাধীনতা
২৯ জুলাই ২০২৬

শিক্ষকের জীবনেও থাকুক স্বাভাবিকতার স্বাধীনতা

একজন শিক্ষক কি শুধু শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে দাঁড়িয়ে পাঠ্যবইয়ের নির্ধারিত পাঠ শেষ করে দেওয়া একজন মানু...

টুথপেস্টেও বিষের ছোবল, এখনই চাই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ
২৮ জুলাই ২০২৬

টুথপেস্টেও বিষের ছোবল, এখনই চাই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ

মানুষ প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে যে কাজটি সবচেয়ে স্বাভাবিকভাবে করে,...

উন্নয়নের নামে ঢাকার অস্তিত্ব বিপন্ন করা যাবে না
২৭ জুলাই ২০২৬

উন্নয়নের নামে ঢাকার অস্তিত্ব বিপন্ন করা যাবে না

রাজধানী ঢাকা আজ এক গভীর নগর সংকটের মুখোমুখি। জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, জল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে