বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার আশুলিয়া থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় মোসা. সিমু আক্তার বৃষ্টি ওরফে মিষ্টি সুভাসকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিষ্টি সুভাস বলেন, ‘বারবার মামলা না দিয়ে আমাকে গুলি করে মেরে ফেলেন। এভাবে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর থেকে মেরে ফেলা অনেক ভালো।’
এদিন দুপুর ১২টার পর তাঁকে কাঠগড়ায় নেওয়ার জন্য হাজতখানা থেকে বের করা হলে মাথা ঘুরে তিনি পড়ে যান। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাঁকে ধরে আবার হাজতখানায় নিয়ে যান। সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন জানিয়ে আদালতকে বলেন, তদন্তে এ মামলায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁকে গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।
এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মিষ্টি সুভাস আদালতের কাছে কথা বলার অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি বলেন, ‘এসব মিথ্যা মামলায় কি আমাকে এভাবে সাজা দিতে পারে? আমাকে এভাবে প্রতিনিয়ত গ্রেফতার না দেখিয়ে গুলি করে আমাকে মেরে ফেলেন। আমি অসুস্থ, আমার সন্তান আছে। আমি কোনো অপরাধ করিনি। কাউকে মারতে যাইনি। আমি রাজনীতি করি না। এভাবে বারবার মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার না দেখিয়ে আমাকে মেরে ফেলেন।’
আসামিপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী তাঁকে এ মামলায় গ্রেফতার না দেখানোর জন্য আদালতের কাছে আবেদন করেন। তবে শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ বেলা ১টা ১০ মিনিটে আশুলিয়া থানার নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদির সামনে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২২ থেকে ২৫ জন নেতা-কর্মী স্লোগান দেন। তাঁরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘অবৈধ নির্বাচনের অবৈধ সরকার মানি না মানব না’, ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ দুজনকে আটক করে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়।
পরে মিষ্টি সুভাসকে চারটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। এসব মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন। এর মধ্যে কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ৯ সেপ্টেম্বর নতুন করে হত্যাচেষ্টা মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক আতোয়ার রহমান। সেদিন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য রোববারের তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল মোড় এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন কিশোর মো. আবির। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অস্ত্রধারীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। তাদের ছোড়া গুলিতে আবির গুরুতর আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করা হয়।
সানা/আপ্র/১৩/৯/২০২৬