ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। দুই নেতার বৈঠকে বাণিজ্য, সড়ক যোগাযোগ, ব্যবসায়িক সংযোগ ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
২০২০ সালে হিমালয়ের বিতর্কিত সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর বেইজিং-নয়াদিল্লি সম্পর্ক তলানিতে নেমে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে।
গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, শি ও মোদী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সড়ক যোগাযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, দুই নেতা সাংস্কৃতিক বিনিময়, ব্যবসায়িক সংযোগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মানুষের আরো অবাধ চলাচলের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পরস্পরের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তারা। এর মধ্যে কাঠামোগত বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতা, সরবরাহ শৃঙ্খলসংক্রান্ত সমস্যা এবং বাজারে অর্থবহ ও পূর্বাভাসযোগ্য প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো রয়েছে।
চীনের শুল্কসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য রেকর্ড ১৫ হাজার ৫৬০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ভারতীয় পণ্য আমদানির বৃহত্তম উৎস হয়ে উঠেছে চীন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চীন থেকে ভারতের আমদানি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারে।
এর বিপরীতে চীনে ভারতের রপ্তানি অনেক কম। ফলে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারতের ঘাটতি ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি হয়েছে।
চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং বলেছেন, চীন সবসময় চীন-ভারত সম্পর্ককে কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে এসেছে এবং সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছে।
দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হচ্ছে উল্লেখ করে শি বলেন, সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ছে এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। ১৯৬২ সালে দুই দেশের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কিন্তু রক্তক্ষয়ী সীমান্ত যুদ্ধ হয়েছিল। এরপর ২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে দুই দেশের সেনাদের সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় ও চার চীনা সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্ক আবারো তলানিতে নেমে যায়।
২০২৪ সালে শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদী হিমালয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মুখোমুখি অবস্থানের অবসান ঘটাতে সম্মত হন। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া গতি পেতে শুরু করে।
পারমাণবিক শক্তিধর চীন ও ভারতের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর অধিকাংশই এখনো অচিহ্নিত। ফলে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোবো সুবিয়ান্তো, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: রয়টার্স
সানা/আপ্র/১৩/৯/২০২৬