রাজধানীর নয়াপল্টনে মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমাবেশে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, একটি মহল বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘বন্ধুহীন’ রাষ্ট্রে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন এসব মহলের কাছে অগ্রহণযোগ্য; ফলে তারা অতীতের মতোই নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে নয়াপল্টনের সমাবেশে তিনি উল্লেখ করেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে ষড়যন্ত্র চালানো হলেও তা সফল হয়নি। তবে নির্বাচনের পর নতুন করে দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত অবস্থানে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে গঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল এসব অপচেষ্টায় সাড়া দিচ্ছে না; বরং বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই আলোচনা করছে।
দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অরাজকতা ও দেশবিরোধী চক্রান্ত প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে জবাব দিতে হবে, যেমন দীর্ঘ সময় ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়েছিল।
বক্তব্যে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণেই এসব পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় ধাপে ধাপে সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও জানান তিনি।
সরকারের উদ্যোগে খাল পুনঃখনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় পানির সংকট নিরসনে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একই সমাবেশে তিনি ‘দেশ গড়ার শ্রমিক’ হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে শ্রম দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে পারে এবং তিনি নিজেও শ্রমিকদের সঙ্গে থেকে দেশ গঠনে কাজ করতে চান। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও প্রতীকীভাবে ‘শ্রমিক’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শ্রমিকদের অংশগ্রহণে নয়া পল্টন এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বক্তব্যের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন গণআন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের অধিকার হরণ, শিল্পকারখানা বন্ধ এবং অর্থনীতিকে আমদানিনির্ভর করে তোলার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এতে শ্রমিকদের জীবনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
বর্তমান সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এসব কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। পাশাপাশি দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যাতে নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়।
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে উচ্ছেদ করা হলেও তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়াও চলছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শ্রমিক ও কৃষক ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে; তাই খেটে খাওয়া মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
সানা/আপ্র/০১/৫/২০২৬