সাইবার হামলা প্রতিরোধ ও তদন্তকারীদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালাবামা অঙ্গরাজ্যের হান্টসভিলে নিজেদের ক্যাম্পাসে একটি কৃত্রিম শহর গড়ে তুলেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। সম্প্রতি সংস্থাটি শহরটির ভেতরের কার্যক্রম ও অবকাঠামোর চিত্র প্রকাশ করেছে।
‘কাইনেটিক সাইবার রেঞ্জ’ নামে পরিচিত ২২ হাজার বর্গফুটের এ প্রশিক্ষণকেন্দ্রের উদ্দেশ্য হলো শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে নিরাপদ পরিবেশে তদন্তকারীদের হাতে-কলমে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়া। এখানে আধুনিক ভোক্তা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্র ও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়, যেগুলো প্রায়ই সাইবার অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।
এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের ‘ইন্টারনেট ক্রাইম রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ১০ লাখের বেশি অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার অপরাধজনিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ রেকর্ড ২ হাজার ৯০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি। সংস্থাটির মতে, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য সবচেয়ে বড় ও চলমান হুমকিগুলোর একটি হলো র্যানসমওয়্যার হামলা।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া এ কৃত্রিম শহরটি একটি বাস্তব মার্কিন জনপদের আদলে নির্মিত। এখানে রয়েছে আসবাবপত্রসহ পূর্ণাঙ্গ বাড়িঘর, হোটেল, গ্যাস স্টেশন, মুদি বিপণি, আদালত, হাসপাতাল ও বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বাস্তবসম্মত সড়ক ও ট্রাফিক ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিয়েছেন। তাদের মধ্যে এফবিআইয়ের নিজস্ব কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ফেডারেল ও স্থানীয় সংস্থার সদস্যরাও রয়েছেন।
শহরটির প্রতিটি অংশ কার্যকর যন্ত্র ও প্রযুক্তিনির্ভর এমন এক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত, যা বাস্তব সমাজ বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের অনুরূপ। তবে প্রশিক্ষণের সময় পরিচালিত কৃত্রিম সাইবার হামলা যাতে বাইরের কোনো ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রটিতে বড় আকারের একটি তথ্যকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে দুই শতাধিক ভৌত সার্ভার স্থাপন করা হয়েছে। এসব সার্ভারের কিছু উইন্ডোজ এবং কিছু লিনাক্সভিত্তিক অপারেটিং ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। বাস্তব জীবনে কোনো প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা বা তদন্ত পরিচালনার সময় তদন্তকারীরা যে পরিবেশের মুখোমুখি হন, এখানে সেই অভিজ্ঞতা বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরা হয়।
কেন্দ্রটির কর্মসূচি ব্যবস্থাপক ডেভ বিচবোর্ড বলেন, এসব কর্মপরিবেশ অত্যন্ত ঠান্ডা, সংকীর্ণ, কোলাহলপূর্ণ, অন্ধকার ও অস্বস্তিকর। বাস্তব পরিস্থিতির মানসিক ও শারীরিক চাপের সঙ্গে তদন্তকারীদের পরিচিত করে তুলতেই এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।
এ কেন্দ্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বাস্তব র্যানসমওয়্যার হামলা এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব অনুকরণ করার সক্ষমতা। উদাহরণ হিসেবে, কোনো হাসপাতালের পুরো ব্যবস্থা সাইবার হামলায় অচল হয়ে গেলে যে সংকট ও ঝুঁকির সৃষ্টি হয়, সে ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুশীলন এখানে করা যায়।
এ ছাড়া ‘কাইনেটিক সাইবার রেঞ্জে’ ডিজিটাল ফরেনসিক বিষয়েও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সাইবার অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের জন্য আধুনিক এনক্রিপ্টেড বা সুরক্ষিত যন্ত্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা অতিক্রমে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। তবে এ কাজে ব্যবহৃত কিছু প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। কারণ, এগুলো অনেক সময় বিভিন্ন যন্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের অজানা নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগায়। ফলে ব্যবহারকারীদের সুরক্ষার জন্য গড়ে তোলা নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভেঙে ফেলা সম্ভব হয়।
সানা/আপ্র/১৭/৬/২০২৬