নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জ এলাকায় পদ্মা রেল সংযোগ সেতুর পিলারের নিচে মাটি কেটে নেওয়ার কার্যক্রম আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রকল্পের অংশ হিসেবে মাটি কাটা হচ্ছে বলে দাবি করা হলেও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে সেতুর ৮৪ থেকে ৯১ নম্বর পিলারের অংশে অন্তত ১৫ ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে পিলার এলাকায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে এবং বর্ষার পানি জমে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, এক বছর আগেও একই স্থানে মাটি কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন স্থানীয়দের বাধার মুখে কাজ বন্ধ হয়। মাসখানেক আগে আবারো কাজ শুরু হলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এ বিষয়ে ফতুল্লা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পরই তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক জানান, স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত না করেই মাটি কাটার কাজ শুরু করা হয়েছিল। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী জানান, বিষয়টি প্রকল্পের কনস্ট্রাকশনের অংশ হিসেবেই করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত মাটি কাটার অভিযোগ সঠিক নয়। আগে থাকা অবকাঠামো ও বাধা অপসারণের অংশ হিসেবেই কিছু কাজ করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা রেল সংযোগ সেতু নির্মাণকালে ওই এলাকায় নিচু জমি ও জলাশয় ছিল। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজ উদ্যোগে মাটি ভরাট করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী সাইট আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবেই কিছু মাটি অপসারণ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানান, প্রকল্প এলাকায় কাজের সময় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কনসালট্যান্ট হিসেবে সাইট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগে কী অবস্থায় ছিল, সেই নকশা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, সেতুর পিলারের আশপাশে এভাবে মাটি কাটলে কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই তারা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সেতুর নিচে বাইপাস সড়ক নির্মাণেরও প্রস্তাব দেন।
এদিকে জেলা প্রশাসক জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছু কাগজপত্র দেখালেও তা যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।
এ বিষয়ে চায়না রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড এবং সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৬/৬/২০২৬