একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, দর্শনগত ( Philosophical) আধ্যাত্মিক ভাবে অসুস্থ থাকেন কিন্তু তার প্রভাব পরিবারের অন্য সদস্য দের উপর মারাত্মক ভাবে পরিলক্ষিত হয়। তাই মাদাসক্তি কে একটি পারিবারিক রোগ বলা যায়।
সহ -আসক্তি কি? সহ - আসক্তি মানসিক ও আচরণগত অবস্থা কে বুঝায় যেখানে পরিবারে সদস্যরা ব্যক্তির সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ, লুকিয়ে রাখা, বা সামাল দেয়ার চেস্টায় নিজেদের জীবন, আবেগ ও নিজস্ব চাহিদা কে উপেক্ষা করেন। পরিবারের সদস্যরা মনে করেন তারা তাদের মাদকাসক্ত সন্তান বা পরিবার এর একজন কে সুস্থ হওয়ার জন্য সাহায্য করছেন কিন্তু বাস্তবে পরোক্ষভাবে তাকে মাদক সেবনে সাহায্য করছেন।
কিভাবে একজন মাদক সেবীর পরিবার সহ- আসক্ত এর ভূমিকা পালন করে থাকেন
১। সমস্যাকে অস্বীকার করা
অনেক পরিবার সামাজিক অপবাদ, লজ্জা, সম্মান হানির ভয়,ইত্যাদি কারনে মাদক গ্রহন কারি ব্যক্তির বাস্তবতা কে স্বীকার করতে চায় না।কেউ কেউ বলে থাকেন সে চাইলে ছাড়তে পারবে, এটা সাময়িক ব্যাপার, কেউ বলে সে মাঝে মাঝে খায়।
২। পরিনতি থেকে রক্ষা করা
কেউ কেউ মাদকাসক্ত ব্যক্তি কে মাদক কেনার টাকা দিয়ে সাহায্য করেন,কেউ কেউ ঋণ শোধ করে দেন, কেউ কেউ বার বার আইনি সমস্যা থেকে উদ্ধার করেন।
৩। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এর চেস্টা
কেউ কেউ সারাক্ষণ নজরদারি করে থাকেন,এর ফলে আসক্ত ব্যক্তি আরো গোপনীয় হয়ে ওঠে।
আত্মত্যাগ এর দুস্টচক্র :
বিশেষ করে বাবা মা, বা জীবন সংগীরা নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কে উপেক্ষা করে আসক্ত ব্যক্তির পেছেন সব শক্তি ব্যয় করে থাকেন।এতে তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষন্নতা ও বার্ন আউট দেখা দেয়।
আবেগীয় নির্ভরশীলতা
কোন পরিবারের সদস্য মনে করেন আসক্ত ব্যক্তি কে বাঁচানো তার একমাত্র দায়িত্ব।
সহ- আসক্তির প্রভাব
দুশ্চিন্তা
বিষন্নতা
অপরাধ বোধ
নিম্ন আত্মসম্মান বোধ
ট্রমা ও মানসিক চাপ
করনীয়
পরিবার গ্রহন যোগ্য ও অগ্রহন যোগ্য আচরণ এর সীমা নির্ধারণ করবে,
নিজের যত্ন নেয়া, কাউন্সেলিং , পারিবারিক থেরাপি।
ডি সার্ণ ২০২১ একটা গবেষণায় দেখেন যে মাদকাসক্ত পরিবার এর সদস্যরা দীর্ঘ মেয়াদি মানসিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, এবং জীবন মানের অবনতির শিকার হন।
শুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী
সাইকোলজিস্ট
এসি/আপ্র/১৩/০৬/২০২৬