সংবাদমাধ্যম খাতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সৃজনশীল ও প্রতিভা বিকাশে রাষ্ট্র ও সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা অপরিহার্য।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব শিল্পপ্রতিষ্ঠান কেবল লাভের জন্য নয়; কিছু প্রতিষ্ঠান জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যেও থাকতে পারে। তার মতে, গণমাধ্যম খাতে সৎ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করা উচিত।
তিনি বলেন, “সৃষ্টিশীলতা এবং প্রতিভা চর্চা যারাই করেন, তাদের কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্র এবং সমাজের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার হয়।”
তিনি আরো বলেন, সরকার চাইছে গণমাধ্যম খাতে শিল্প উদ্যোক্তাদের সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অতীতে রাষ্ট্র ও সাংবাদিকদের মধ্যে যে দূরত্ব ছিল, এখন তা কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং রাষ্ট্র এখন সহযোগী অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায়।
তিনি বলেন, সমস্যা শুধু তুলে ধরাই নয়, তার সমাধানও খুঁজে বের করতে সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি কেবল তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে না দিয়ে সরকারের ভেতরে একটি নীতি-নির্ধারণী ফোরাম থাকা প্রয়োজন, যা গণমাধ্যম নীতিকে সঠিকভাবে পরিচালনা করবে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল অবস্থানে নিয়ে যেতে পারলে রাষ্ট্র আরো জবাবদিহিমূলক হবে এবং দেশ উন্নয়নের পথে এগোবে।
নাগরিক সাংবাদিকতা বা সিটিজেন জার্নালিজম এখন বাস্তবতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অস্বীকার বা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন।
তবে মূলধারার গণমাধ্যমকে অবশ্যই দেশের প্রচলিত আইন মেনে চলতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনায় ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৬/৬/২০২৬