সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে রাজধানীর বনানী থানায় করা হত্যাচেষ্টা মামলায় ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে থাকা সব মামলায় জামিন হওয়ায় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
খায়রুল হকের আইনজীবী বলেন, তার বিরুদ্ধে করা সব মামলায় জামিন হওয়ায় এখন কারাগার থেকে তার মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।
২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবিএম খায়রুল হক। পরের বছরের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। এর ফলে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল হয়ে যায়।
অবসরের পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তৎকালীন সরকার তাকে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরে কয়েক দফায় তার মেয়াদ বাড়ানো হয়। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই দিন রাতেই যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তী সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হত্যা ও হত্যাচেষ্টা, রায় ‘জালিয়াতি’ এবং দুর্নীতির অভিযোগে করা একাধিক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। সর্বশেষ গত জুলাইয়ে বনানী থানায় করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলাতেও তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী গত এক বছরে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং সবগুলোতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। সর্বশেষ বনানী থানার মামলায় হাইকোর্টের জামিনের আদেশের পর তার কারামুক্তির পথও খুলে গেছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১০/৮/২০২৬