ভবিষ্যতে জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে শব্দহীন সুপারসনিক উড্ডয়ন চালুর লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। এ মাসের শুরুতে প্রথম সফল উড্ডয়নের পর পরীক্ষামূলক ‘এক্স-৫৯’ জেট এবার পরিকল্পিত মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় গতি ও উচ্চতা স্পর্শ করেছে।
নাসা জানিয়েছে, ‘এক্স-৫৯’ এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে এটি শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে চললেও প্রচলিত সুপারসনিক বিমানের মতো তীব্র ‘সনিক বুম’ বা শব্দবিস্ফোরণ সৃষ্টি না করে। এর পরিবর্তে মাটিতে পৌঁছাবে তুলনামূলক মৃদু শব্দ।
চলমান পরীক্ষার অংশ হিসেবে প্লেনটির উৎপাদিত শব্দের মাত্রা নির্ণয় এবং প্রয়োজন হলে তা আরো কমানোর জন্য একে একটি সাধারণ গবেষণা বিমানের সঙ্গে উড্ডয়ন করানো হচ্ছে। ওই বিমানটি প্রচলিত সুপারসনিক উড্ডয়নের মতো তীব্র সনিক বুম সৃষ্টি করে।
শুক্রবার পরিচালিত এক পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে ‘এক্স-৫৯’ ঘণ্টায় প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার বা ‘ম্যাক ১ দশমিক ৪’ গতিতে উড়েছে এবং ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পৌঁছেছে। এর আগে ৫ জুনের পরীক্ষায় বিমানটির গতি ছিল ‘ম্যাক ১ দশমিক ১’।
নাসার ভাষ্য, আগের উড্ডয়নের তুলনায় এবারের পরীক্ষা ছিল আরো গুরুত্বপূর্ণ ও বৈপ্লবিক একটি ধাপ। কারণ, এ সময় বিমানটি এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে, যা আসন্ন ‘কোয়েস্ট’ মিশনে সরাসরি প্রয়োগ করা হবে।
আরো কয়েক মাস পর শুরু হতে যাওয়া ‘কোয়েস্ট’ মিশনের আওতায় ‘এক্স-৫৯’ জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করবে। এ সময় মাটিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো মৃদু শব্দ সম্পর্কে তাদের সরাসরি প্রতিক্রিয়া ও মতামত সংগ্রহ করা হবে।
তবে মূল মিশনের আগে বিমানটিকে ‘অ্যাকিউস্টিক ভ্যালিডেশন’ বা শব্দতরঙ্গের কার্যকারিতা যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এ ধাপে গবেষকেরা সুপারসনিক শব্দতরঙ্গের মাত্রা নিখুঁতভাবে পরিমাপ করবেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে বিমানটি তীব্র শব্দবিস্ফোরণ ছাড়াই সফলভাবে শব্দের গতি অতিক্রম করতে সক্ষম।
সানা/আপ্র/১৭/৬/২০২৬