তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুর নগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতারা বলেছেন, কোনো অঞ্চলের মানুষের রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত করা গণতান্ত্রিক অধিকার ও নাগরিক সমতার পরিপন্থী। তাঁরা মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারেরও দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে নগরের পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি সিটি বাজার, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব ও গ্র্যান্ড হোটেল মোড় ঘুরে শাপলা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান। সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল। বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক।
এ টি এম আজম খান বলেন, মন্ত্রীর বক্তব্যে এমন ধারণা পাওয়া যায় যে রংপুরের মানুষ বিএনপির পরিবর্তে জাতীয় পার্টি বা জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়ায় এ অঞ্চল কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য রংপুরবাসীর রাজনৈতিক সচেতনতা, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও সাংবিধানিক অধিকারকে খাটো করে। তিনি বলেন, কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়া হবে, তা জনগণের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার। উন্নয়নের সঙ্গে রাজনৈতিক পছন্দের সম্পর্ক তৈরি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারের দায়িত্ব দলমত-নির্বিশেষে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
রংপুরের দীর্ঘদিনের বৈষম্য দূর করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
সমাবেশ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে উন্নয়নকে যুক্ত না করে রংপুরের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বিক্ষোভ মিছিলে মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খান, সেক্রেটারি কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক, অ্যাসাইনমেন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল গনি, কোতোয়ালি থানা আমির মাওলানা গোলাম কিবরিয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত মঙ্গলবার রাতে একই বক্তব্যের প্রতিবাদে রংপুরে জামায়াতের ১১ জন সংসদ সদস্য সংবাদ সম্মেলন করেন। তাঁরাও বলেন, রংপুরের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে ভোট দেবেন, সেটি তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কোনো অঞ্চলের উন্নয়নকে রাজনৈতিক পছন্দের সঙ্গে শর্তযুক্ত করা যাবে না।
বিতর্কের সূত্রপাত গত রোববার রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া মির্জা ফখরুলের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি রংপুরের মানুষকে দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকার কারণ হিসেবে তাঁদের রাজনৈতিক পছন্দের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং বিএনপি সরকারে এলে রংপুরের মানুষ অন্য দলকে ভোট দেওয়ায় উন্নয়ন কীভাবে হবে-এমন প্রশ্ন করেন।
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর থেকেই রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে এর পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার জামায়াতের বিক্ষোভ ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে সেই বিতর্ক প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ নিলো। ফলে বক্তব্যটি ঘিরে রংপুরের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়ন ও ভোটের রাজনীতির সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক সামনে এসেছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১২/৮/২০২৬