নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার নাউতরা নদীর ওপর নটাবাড়ি বাঁশের সাঁকো পরিদর্শনে গিয়ে সেটি ভেঙে নদীতে পড়ে গেছেন জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মী ও কয়েকজন বাসিন্দা। এ সময় সাঁকোর কিছুটা সামনে থাকায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার। বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কেউ গুরুতর আহত হননি।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে কয়েকজন সাঁকোর ওপর দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁদের মধ্য থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘যাওয়া যাবে, সমস্যা হবে না।’ সংসদ সদস্য তখন সাঁকোর সামনের দিকে ছিলেন। তিনি এগিয়ে যাওয়ার পরপরই তাঁর পেছনের অংশ ভেঙে পড়ে এবং সেখানে থাকা কয়েকজন নিচে পড়ে যান।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলা সদরের সঙ্গে নাউতরা এলাকার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম নটাবাড়ি বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সরেজমিনে দেখতে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তার স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় নেতারা সাঁকোর ওপর উঠলে একপর্যায়ে সেটি ভেঙে পড়ে। এতে উপজেলা জামায়াতের আমির মজিবুর রহমান, নায়েবে আমির কাজী হাবিবুর রহমান, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রোকনুজ্জামান, সংসদ সদস্যের দেহরক্ষী আব্দুল মান্নান, ইউনিয়ন জামায়াতের আমির নূর মোবাশ্বেরসহ আট থেকে ১০ জন সাঁকো থেকে নিচে পড়ে যান। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও এ সময় তাঁদের সঙ্গে ছিলেন।
ডিমলা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. রোকনুজ্জামান বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের আমন্ত্রণে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে তাঁরা নটাবাড়ি সাঁকো পরিদর্শনে যান। সাঁকোটি দেখার সময় হঠাৎ সেটি ভেঙে পড়লে তাঁরা ও স্থানীয় কয়েকজন নিচে পড়ে যান। তবে সংসদ সদস্য কিছুটা সামনে থাকায় তিনি রক্ষা পান। ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি।
নাউতরা নদীর ওপর থাকা পুরোনো বাঁশের সাঁকোটি স্থানীয় মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থার প্রতীক হয়ে আছে। বর্ষাকালে নদীতে পানি বাড়লে সাঁকো পারাপার আরো বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই সাঁকো ব্যবহার করতে হয়।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, বাঁশের অস্থায়ী সাঁকোর পরিবর্তে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হলে নাউতরা এলাকার মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা নিরাপদ ও সহজ হবে। সেই দাবির বাস্তবতা দেখতে গিয়ে জনপ্রতিনিধি ও তাঁর সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীদের সামনেই সাঁকো ভেঙে পড়ার ঘটনা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার নাজুক অবস্থাই নতুন করে সামনে আনল।
ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আব্দুস সাত্তারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সানা/আপ্র/১২/৮/২০২৬