চীনের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ সি৯১৯ বুধবার প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা এয়ার চায়নার পরিচালনায় বেইজিং থেকে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরের উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার মধ্য দিয়ে উড়োজাহাজটির আন্তর্জাতিক যাত্রার সূচনা হলো।
বেইজিং রাজধানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার চায়নার সি৯১৯ উড়োজাহাজটি স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে উলানবাটোরের উদ্দেশে যাত্রা করে। প্রায় দুই ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে এটি মঙ্গোলিয়ার রাজধানীতে অবতরণ করে। বেইজিং-উলানবাটোর রুটে প্রতিদিন একটি করে যাওয়া-আসার ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সি৯১৯ এর আগে মূলত চীনের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক রুটে চলাচল করেছে। ২০২৩ সালের মে মাসে সাংহাই থেকে বেইজিং রুটে এর প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এরপর ধীরে ধীরে চীনের বিভিন্ন শহরের মধ্যে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন শুরু করে উড়োজাহাজটি।
চীনের রাষ্ট্রীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট করপোরেশন অব চায়না বা কোমাকের তৈরি সি৯১৯কে বোয়িং ৭৩৭ ও এয়ারবাস এ৩২০-এর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে নিয়মিত যাত্রী পরিবহনে এর প্রবেশকে তাই চীনের বেসামরিক বিমানশিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে উড়োজাহাজটির বিস্তারের ক্ষেত্রে এখনো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন এখনো না পাওয়ায় বিশ্বের বড় বিমানবাজারগুলোতে এর প্রবেশ সীমিত। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের একটি অংশ এখনো বিদেশি উৎসনির্ভর।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১০ আগস্ট পর্যন্ত সি৯১৯ দেশের ২৫টি শহরকে যুক্ত করে ৫৭টি রুটে চলাচল করেছে এবং এতে ৭৫ লাখের বেশি যাত্রী ভ্রমণ করেছেন।
বেইজিংয়ের জন্য আন্তর্জাতিক আকাশপথে সি৯১৯-এর এই প্রবেশ শুধু একটি নতুন বাণিজ্যিক রুট চালুর ঘটনা নয়; নিজস্ব যাত্রীবাহী উড়োজাহাজকে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টারও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বুধবারের ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে সেই প্রচেষ্টাই প্রথমবার চীনের সীমানা পেরিয়ে নিয়মিত আন্তর্জাতিক যাত্রীসেবায় প্রবেশ করল।
সানা/ডিসি/আপ্র/১২/৮/২০২৬