জাপান-এ দক্ষ কর্মীর ঘাটতি মোকাবিলায় বড় আকারে বিদেশি জনশক্তি নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ-এর জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
জাপান সরকার ২০২৯ সালের মধ্যে নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী (SSW) ক্যাটাগরিতে প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার বিদেশি কর্মী নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশ সঠিক প্রস্তুতি নিতে পারলে এর অন্তত ৪০ শতাংশ—অর্থাৎ ৩ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জাপান বাংলাদেশের জন্য একটি আকর্ষণীয় শ্রমবাজার। তবে সেখানে কাজ করতে হলে জাপানি ভাষা, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি।
সরকার ইতোমধ্যে ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-এর অধীনে দেশের ৫৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে জাপানি ভাষা শিক্ষা চালু হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও ২০০টির বেশি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কার্যক্রম চালাচ্ছে।
এছাড়া জাপানে কর্মসংস্থান বাড়াতে “জাপান সেল” চালু, দূতাবাসের শ্রম উইং শক্তিশালীকরণ এবং শিক্ষার্থী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালে ১০ হাজার শিক্ষার্থী জাপানে পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী হতে পারে।
এসি/আপ্র/২৮/০৪/২০২৬