গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ইরান যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৭ পিএম, ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৩ এএম ২০২৬
ইরান যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে জড়ানোর পর সেখান থেকে বেরিয়ে আসার উপযুক্ত পথ খুঁজে পাচ্ছেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধ শেষ করার একাধিক বিকল্প তার সামনে থাকলেও প্রতিটি পথই জটিলতা ও ঝুঁকিতে পরিপূর্ণ বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। গত ২৬ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এটিকে ‘উচ্চমাত্রার সাফল্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত, আর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল করে দিয়েছে এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের প্রভাব ট্রাম্পের কূটনৈতিক সূচিকেও প্রভাবিত করেছে। চীন সফর পিছিয়ে মে মাসের মাঝামাঝিতে নেওয়া হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হবে-এমনটাই আশা করছেন তিনি।

একদিকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি, অন্যদিকে আলোচনার উদ্যোগ-দুই পথেই এগোতে দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনকে। তিনি জানিয়েছেন, আলোচনা চলাকালে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ রাখা হবে।

বিশ্লেষণ বলছে, ট্রাম্পের সামনে মূলত চারটি পথ রয়েছে-স্থলবাহিনী পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি, সীমিত সাফল্য দেখিয়ে যুদ্ধের ইতি টানা, কূটনৈতিক সমাধানে যাওয়া অথবা পূর্ণমাত্রায় হামলা অব্যাহত রাখা। তবে এর কোনোটিই সহজ নয় এবং প্রত্যেকটির সঙ্গে বড় ধরনের ঝুঁকি জড়িত।

স্থলবাহিনী পাঠানোর বিকল্পে ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলো দখলের চিন্তা রয়েছে। বিশেষ করে খার্ক দ্বীপ, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়, সেটি লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। কিন্তু এমন পদক্ষেপ বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরো বাড়াতে পারে এবং ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকি বাড়াবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছে। তাদের ধারণা, যত বেশি সময় যুদ্ধ চলবে, ততই তারা ভালো শর্তে চুক্তি করতে পারবে। এই অবস্থানই আলোচনাকে আরো কঠিন করে তুলছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ থেকে দ্রুত সরে দাঁড়ানোর পথও সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি তুলে যুদ্ধের ইতি টানতে পারে। তবে এতে ভবিষ্যতে আবারো একই ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি থেকে যাবে।

কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা থাকলেও দুই পক্ষের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস বড় বাধা হয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে। বিপরীতে ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি তুলেছে।

সবশেষ বিকল্প হিসেবে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এতে ইরানের সরকার পতনের নিশ্চয়তা নেই, বরং দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ আরো বাড়বে।

ইতোমধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হবে, ততই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। ফলে দ্রুত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করা এখন তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কঙ্গোর স্কুলে আগুন, পদদলনে ২৯ শিশুর মৃত্যু

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বুকাভু শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর পদদলনে অন্তত ২৯...

৯/১১-এর ২৫ বছর: নিরাপত্তা বাড়লো, সন্ত্রাস কি কমলো?
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯/১১-এর ২৫ বছর: নিরাপত্তা বাড়লো, সন্ত্রাস কি কমলো?

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের চারটি বিমান ছিনতাই ছিল শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলা নয়; এটি ছিল বৈশ্বিক নিরা...

বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাব আল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে হুথিরা

ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুথিরা লোহিত সাগরের তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শহর আল-মাখা (মোচা)-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছ...

ইউক্রেন ইস্যুতে চুক্তিতে আসতে চান পুতিন, দাবি ট্রাম্পের
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন ইস্যুতে চুক্তিতে আসতে চান পুতিন, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ট...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 16 ঘন্টা আগে