ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে ফিরিয়ে আনতে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার হওয়া এই দুই ব্যক্তিকে দেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে দিল্লি।
গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক জানতে চান, হাদি হত্যা মামলার আসামিদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ অথবা কনস্যুলার যোগাযোগের বিষয়ে ভারতের অবস্থান কী। জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ইতিমধ্যে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চলমান তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় এ নিয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
এর আগে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতিমধ্যে দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ঢাকা।
গত ৮ মার্চ এক বিবৃতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনী জানায়, চাঁদাবাজি ও হত্যাসহ গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশি নিজেদের দেশ থেকে পালিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
উল্লেখ্য, শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোড এলাকায় রিকশায় থাকা অবস্থায় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৪/৩/২০২৬