ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ড এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেছেন দেশটির সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শিবশঙ্কর মেনন।
একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভারতের এই নীরবতা কোনো কৌশলগত পদক্ষেপ নয়; বরং এটি কূটনৈতিক নীরবতার একটি ধারাবাহিক প্রবণতার অংশ, যা বৈশ্বিক পরিসরে নয়াদিল্লির বক্তব্যের গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
মেননের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় বৈশ্বিক সংঘাতের সময় ভারত প্রকাশ্যে স্পষ্ট কোনো অবস্থান নেওয়া এড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, যখন ভারতের স্বার্থ সরাসরি জড়িত থাকে, তখন নীরবতাকে কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।
তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসনকে ‘আগ্রাসন’ বলতে অস্বীকৃতি জানানো থেকে শুরু করে গাজায় হত্যাযজ্ঞের বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবে বিরত থাকা-বড় বড় অনেক ইস্যুতেই ভারত নীরবতার পথ বেছে নিয়েছে।
এমন অবস্থান ভারতের কূটনৈতিক প্রভাবকে দুর্বল করছে বলে মন্তব্য করে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, শেষ পর্যন্ত এটি দেশের বক্তব্যের মূল্য কমিয়ে দেয়। কেউ যদি সব সময় নীরব থাকে, মানুষ ধীরে ধীরে তার কথা শোনা বন্ধ করে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর ভারতের নিন্দা জানানোর প্রসঙ্গ তুলে মেনন বলেন, এই বিলম্ব তার কাছে ব্যাখ্যাতীত মনে হয়েছে।
তার ভাষায়, প্রতিবেশী অঞ্চলের একটি স্বীকৃত রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধানকে অবৈধভাবে হত্যা করার পর ভারতের নীরব থাকা, নিন্দা না করা বা সমবেদনা না জানানো এবং পাঁচ দিন পরে প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তে পররাষ্ট্র সচিবের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো-এ বিষয়টি তার কাছে বোধগম্য নয়।
সাবেক এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, ভারত যদি নীরব থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখে, তাহলে এই সংঘাতে কোনো ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও করতে পারে না।
তিনি আরো বলেন, এই বিষয়ে ভারতের নিজস্ব স্বার্থ রয়েছে এবং সে কারণে দেশের পক্ষে কথা বলা উচিত। মুখ বন্ধ রাখা কোনো কৌশল নয়, বিশেষ করে যখন এতে এমন ধারণা তৈরি হয় যে ভারত পরোক্ষভাবে আক্রমণকারীদের পক্ষ নিচ্ছে।
নীরবতাকে কৌশলগত রাষ্ট্রনীতি হিসেবে দেখা যেতে পারে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি দ্বিমত পোষণ করেন। তার মতে, যেখানে কোনো দেশের স্বার্থ সরাসরি জড়িত এবং যার প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পড়ে, সেখানে নীরবতাকে কৌশল বলা যায় না। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব দ্রুত ভারতের ওপর পড়ে। একইভাবে সার সরবরাহ কমে গেলে কৃষিখাতেও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে। দেশে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ার ঘটনাও তার উদাহরণ।
মেননের মতে, এসব পরিস্থিতিতে নীরবতা কোনো কার্যকর কৌশল হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, ভারতের অতীতের সরকারগুলো এমন পরিস্থিতিতে নীরব থাকেনি। স্বল্পমেয়াদি চরণ সিং সরকারের সময়ও সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে সামরিক আগ্রাসন চালালে ভারত প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল।
সানা/আপ্র/১৩/৩/২০২৬