ভারতের রাজস্থানের পদমপুরা গ্রামের ১৪ বছর বয়সী নিশা বৈষ্ণব এবং তার ১৯ বছর বয়সী দিদি মুন্না বাল্যবিয়ের প্রস্তাব অস্বীকার করে ফুটবলকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। গ্রামের রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে তারা মাঠে নামেন, আর ফুটবলকে তুলে ধরেন নিজেদের ভবিষ্যতের স্বপ্নের প্রতীক।
নিশার মা লালি প্রাথমিকভাবে মেয়ের বিয়েতে উৎসাহী ছিলেন। কিন্তু নিশা সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি পারব না। ফুটবলই আমার ভালোবাসা।’ এই নীরব প্রতিরোধকে শক্তিশালী করেছে ফুটবল ফর ফ্রিডম প্রকল্প, যা খেলাধুলার মাধ্যমে মেয়েদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে। মুন্না বলেন, ‘শুরুতে গ্রামের মানুষ আমাদের দিকে আঙুল তুলত। আমরা পাত্তা দিইনি।’
নিশা দ্রুত খেলায় উন্নতি করেন এবং ২০২৪ সালে রাজস্থানের জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে রাজ্য দলের হয়ে খেলেন। তিনি বিদ্রোহের প্রতীক হিসেবে নিজের চুলও ছোট করে ফেলেন।
মুন্না বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন এবং ছোট মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। প্রকল্পের লক্ষ্য কেবল খেলা নয়, বাল্যবিয়ে বন্ধ ও মেয়েদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা। পদ্মা যোশি বলেন, ‘ভালো ফুটবল খেললে মেয়েদের সরকারি চাকরিতে সুযোগ বাড়ে, পরিবারে বোঝা না হয়ে সম্পদ হয়ে উঠেন তারা।’
১৫ বছর বয়সী নিশার স্বপ্ন ভারতের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামা। ফুটবল এখন পদমপুরার অনেক মেয়ের জীবনের নতুন ঠিকানা, যেখানে তারা কেবল খেলছে না, নিজেদের ভবিষ্যৎও লিখছে। সূত্র: বিবিসি।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/২/২০২৬