গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

এখনই দরকার জরুরি উদ্যোগ

দেশীয় বাজারে বৈশ্বিক সংকটের অভিঘাত

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১৩:৫৫ পিএম, ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৬:২৯ এএম ২০২৬
দেশীয় বাজারে বৈশ্বিক সংকটের অভিঘাত
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং তার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্যবাজারের অস্থিরতা এখন আর দূরবর্তী কোনো বাস্তবতা নয়; এর সরাসরি অভিঘাত পড়ছে বাংলাদেশের বাজার ও জনজীবনে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির ফলে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ভোজ্যতেল, মাংস, সবজি, রান্নার গ্যাস-কোনো খাতই এই চাপের বাইরে নয়। ফলে স্থির বা সীমিত আয়ের বিপরীতে ব্যয় বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশ্ববাজারে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির সাম্প্রতিক প্রবণতা পরিস্থিতির গভীরতাকে আরো স্পষ্ট করে। জ্বালানি ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার প্রভাব খাদ্যদ্রব্যের দামে প্রতিফলিত হচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এই চাপ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে-এমন আশঙ্কা অমূলক নয়। বাংলাদেশ যেহেতু জ্বালানিতে ব্যাপকভাবে আমদানিনির্ভর, সেহেতু বৈশ্বিক বাজারের প্রতিটি ওঠানামা এখানে দ্রুত প্রতিফলিত হয়। তবে কেবল বাহ্যিক কারণই নয়, অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রবণতা, অসাধু মজুতদারি এবং সরবরাহে কারসাজি- এসব বহুদিনের চেনা সমস্যা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে পণ্য আটকে রেখে দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের মধ্যেও অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক থেকে অতিরিক্ত পণ্য কিনে মজুত রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বাজারে চাপ আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। জ্বালানি খাতের চিত্র আরো উদ্বেগজনক। বিভিন্ন স্থানে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা-এগুলো কেবল সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিত চাহিদা ও অব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকদের একটি অংশ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহ করে বাসায় মজুত রাখছেন, যা সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে এবং প্রকৃত প্রয়োজনীয় খাত-পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন-ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়, ব্যয় সংকোচন এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের মতো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব সিদ্ধান্তের সফলতা নির্ভর করছে কঠোর বাস্তবায়নের ওপর।

বাজার তদারকি জোরদার না হলে, মজুতদারি ও কারসাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে কোনো নীতিই কার্যকর ফল দেবে না। এই প্রেক্ষাপটে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপ। নিত্যপণ্যের বাজারে কঠোর নজরদারি, জ্বালানির সুষম বণ্টন, কৃষি ও শিল্প খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ-এসব একযোগে বাস্তবায়ন করতে হবে। এর পাশাপাশি গণসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ অপ্রয়োজনীয় মজুত ও অপচয় থেকে বিরত থাকে। সংকটের এই সময়ে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। বৈশ্বিক অস্থিরতা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে তার অভিঘাত আরো তীব্র হবে। তাই এখনই দূরদর্শী পরিকল্পনা, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা জরুরি। অন্যথায় এই অস্থিরতা রূপ নিতে পারে আরো গভীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটে। আশা করি, বর্তমান সরকারের বিচক্ষণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগ্য নেতৃত্বে তেমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না বাংলাদেশকে।

সানা/এসি/আপ্র/০৫/০৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক
১৪ অক্টোবর ২০২৬

নির্ধারিত দামে এলপিজি নিশ্চিত করুন, ভোক্তাকে জিম্মি করা বন্ধ হোক

জ্বালানি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। অথচ সরকার নির্ধারিত দামেও যদি রান্নার গ্যাস না মেল...

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা
১৩ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীর প্রাণ, আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক নিরাপত্তার কঠিন পরীক্ষা

প্রবাসে উপার্জিত অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে, অসংখ্য পরিবারকে বাঁচিয়ে রাখে। অথচ সেই উপার্জ...

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত
১২ অক্টোবর ২০২৬

রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি, অসহিষ্ণুতার অশনিসংকেত

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি...

বন্দরের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্বার্থ, চুক্তিতে চাই পূর্ণ স্বচ্ছতা
১০ অক্টোবর ২০২৬

বন্দরের নিয়ন্ত্রণে জাতীয় স্বার্থ, চুক্তিতে চাই পূর্ণ স্বচ্ছতা

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 17 ঘন্টা আগে