মো. আকরাম হোসেন, টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের গল্লী বড়বাড়ি এলাকায় জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, গ্রাম আদালত, দেওয়ানি আদালত ও থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ালেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি। একাধিকবার জমি মাপজোক ও স্থানীয়ভাবে সালিশের পরও নিষ্পত্তি না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম লাবুর দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাঁদের পারিবারিক সম্পত্তি। কিন্তু প্রতিবেশী আরিফ খান, কাইয়ুম খান খোকা ও তাঁদের স্বজনেরা প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জোরপূর্বক দখলে রেখেছেন। জমি ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানালে কিংবা এর প্রতিবাদ করলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলামের লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, প্রতিপক্ষের পালিত গবাদিপশুর ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য তাঁর পুকুরে ফেলা হচ্ছে। এতে পুকুরের প্রচুর মাছের পোনা মারা গেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধপূর্ণ জমিটির মূল মালিক আদালত খান। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বহু বছর ধরে জমিটি অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক প্রভাবশালীর উসকানিতে তাঁরা নিয়মিত আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিরোধপূর্ণ জমিটি মাপজোক করা হয়। তবে এতে বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। পরে ২০২৫ সালের ৮ মে বিষয়টি গ্রাম আদালত থেকে মির্জাপুরের সহকারী জজ আদালতে পাঠানো হয়। বর্তমানে আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
দীর্ঘদিনেও বিরোধের সমাধান না হওয়ায় সিরাজুল ইসলাম লাবু মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত আরিফ খান ও কাইয়ুম খান খোকার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। তবে জমির বৈধ মালিকানা প্রতিষ্ঠার পক্ষে তাঁরা কোনো সন্তোষজনক দলিল বা সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জমির সীমানা নিয়ে বারবার মাপজোক, একাধিক স্থানীয় সালিশ এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরও বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে। বিরোধকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও করছেন তাঁরা।
এ অবস্থায় বিরোধের স্থায়ী ও আইনানুগ নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রত্যাশা, জমির মালিকানা ও সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধ যথাযথভাবে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৯/১০/২০২৬