পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার শেষ বত্রিশের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দেখার অপেক্ষায় থাকা ভক্তদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে কানাডার আবহাওয়া সংস্থা।
দেশটিতে তীব্র দাবদাহের কারণে সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে এবং মদ্যপান সীমিত রাখতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর পাঁচটায় শুরু হবে নকআউট পর্বের ম্যাচটি। টরন্টোতে অনুষ্ঠেয় ম্যাচে দুই দেশের দুই গ্রেট লুকা মদ্রিচ ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে আছেন ফুটবল ভক্তরা।
টরন্টো শহরের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিশেল মুর্তি বলেছেন, “তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা করবেন না, সারাদিন পানি পান করুন। মদ্যপান যতটা সম্ভব সীমিত রাখুন। কারণ, অ্যালকোহল শরীরকে আরও দ্রুত পানিশূন্য করে দিতে পারে।”
বার্ত সংস্থা রয়টার্সকে মুর্তি জানান, আর্দ্রতার কারণে বৃহস্পতিবার টরন্টোতে অনুভূত তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি হতে পারে।
এছাড়া সম্ভাব্য বজ্রঝড়ের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যার ফলে কিছু জায়গায় খেলা দেখার আয়োজন বাতিল হতে পারে।
কানাডার আবহাওয়া বিভাগও সতর্ক করে বলেছে, ম্যাচের দিন তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে এবং সঙ্গে বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট ভেন্যু টরন্টো স্টেডিয়ামে আসরের শেষ ম্যাচ এটি। বিশ্বকাপ উপলক্ষে শহরজুড়ে বিভিন্ন দর্শক সমাবেশ এবং পাবলিক ফ্যান জোনও তৈরি করা হয়েছে।
বন্যা থেকে শুরু করে তীব্র তাপপ্রবাহ- কানাডার মানুষ সাম্প্রতিক সময়ে চরম বাজে আবহাওয়ার মুখোমুখি হচ্ছে। এর মধ্যেই বুধবার দেশটির জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়।
টরন্টোর বিখ্যাত ন্যাথান ফিলিপস স্কয়ারে গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে যাওয়া সমর্থকদের অনেককে শহর কর্তৃপক্ষের স্থাপন করা কৃত্রিম মিস্টিং স্টেশনের নিচে গিয়ে শরীর ঠাণ্ডা করতে দেখা যায়।
এই গরমে ফুটবলাররা কীভাবে খেলছে, ভাবতেই অবাক লাগছে টরন্টোরই বাসিন্দা মেগান রেনির।
“আমি খেলা দেখতে এসেছি। বাইরে এত গরম, খেলোয়াড়রা কেমন অনুভব করছে সেটা ভাবতেই পারছি না। তবে আমার মনে হয়, আগেভাবেই আমার চলে যেতে হবে, কারণ এখানে থাকা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
কলম্বিয়া থেকে আসা পর্যটক লরা আলবারেসও অতিষ্ঠ এই গরমে। তিনি শুধু হোটেলে গিয়ে বিশ্রাম নিতে চান,
“সৌভাগ্যবশত এখানে পান করার পানি আছে… হয়তো পরে আবার বাইরে আসব, কারণ এখন আবহাওয়া খুব গরম।”
ডিসি/আপ্র/০২/০৭/২০২৬