ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় শিশুর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নয় বছর বয়সী ওই শিশুকে তাসপিয়া হিসেবে শনাক্ত করা হয়। সে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার লালদীঘি গ্রামের বাসিন্দা লিজার প্রথম ঘরের সন্তান।
এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন করতোয়া নদীতে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এবং পরে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাসপিয়ার মা লিজার দ্বিতীয় বিয়ের পর শিশুটি ঘোড়াঘাটের ভর্ণাপাড়া এলাকার সাফিউল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে থাকত। লিজা ও সাফিউল দুজনই ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রব্বানী জানান, গত শুক্রবার সাফিউল তাসপিয়াকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। পরে রোববার বিকেলে বিরামপুরের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে সাফিউলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার বিন্যাগাড়ি রোডের জোবাইদা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালিকা রুমিছা খাতুনও তাসপিয়াকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রুমিছা খাতুন জানান, শুক্রবার এক ব্যক্তি তাসপিয়াকে মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে নিয়ে আসেন। ভর্তি করতে জন্মনিবন্ধন, পরিচয়পত্র, ছবি, অভিভাবকের মুঠোফোন নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং প্রায় ১৮ হাজার টাকা লাগবে বলে তাকে জানানো হয়। ওই ব্যক্তি কাগজপত্র ও টাকা দেওয়ার কথা বলে তাসপিয়াকে মাদ্রাসায় রেখে যান।
তবে শিশুটির পারিবারিক পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় শনিবার রুমিছা খাতুন উল্লাপাড়ায় তাসপিয়ার দাদির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেন। পরে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ১২ মিনিটে ওই ব্যক্তি কিছু কাগজপত্র ও ছবি দিয়ে তাসপিয়াকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। এরপর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
রুমিছা খাতুন বলেন, ওই দিন রাত ৯টা ১৬ মিনিটে তাসপিয়া নিজেই ফোন করে জানায়, তাকে অন্য একটি মাদ্রাসায় রাখা হয়েছে। এরপর শিশুটির সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, তাসপিয়ার মরদেহ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।
তিনি আরো বলেন, তাসপিয়ার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করা হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৮/২০২৬