পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগার থেকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও দলের উদ্বেগের মধ্যে আদালতের এ নির্দেশকে স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছে তারা।
সাবেক ক্রিকেট তারকা থেকে রাজনীতিবিদে পরিণত হওয়া ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। তবে শুরু থেকেই এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।
গত বছর থেকেই ইমরানের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তার দুই ছেলে। তার আইনজীবীদের দাবি, কারাগারে থাকার সময় ইমরান তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বড় অংশ হারিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক একটি নির্দেশ। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত আরো আগে হলে ইমরানের চোখ ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।
তিনি আরো বলেন, চিকিৎসকেরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইমরান খানের হাসপাতালে থাকা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইমরানের মুখপাত্র নাইম হায়দার পাঞ্জুথা জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হবে। সেখানে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাকে রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারানোর পর ইমরান খান রাষ্ট্রীয় উপহার ও বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলার মুখোমুখি হন। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় তার সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে। বেশ কিছু আপিল বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অন্যায় ও অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তিনি।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে এবং প্রতিবেশী ভারতের বেশ কয়েকজন খ্যাতনামা ক্রিকেটার ইমরানের বন্দিদশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা তার উন্নত চিকিৎসারও দাবি জানান।
২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রধান ইমরান খান এখনও দেশটির প্রধান প্রদেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য জনসমর্থন ধরে রেখেছেন। তবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে দলটির নির্বাচনী প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়। ফলে দলটির প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে হয়।
সানা/আপ্র/১৮/৮/২০২৬