একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উঠতি বয়সী কিশোরদের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি, হুমকি ও নানা অপরাধের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না হওয়ায় অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সক্রিয়তার খবর সাম্প্রতিক সময়েও সামনে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং, চুরি ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে।
বিশেষ করে হাটহাজারীতে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও বাইক ব্যবসায়ী ইমনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নিয়ে রাতভর নির্যাতন এবং তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল ও দুই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এর দুই দিন পর কিশোর গ্যাংয়ের কথিত নেতা আরাফাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আরাফাত গুলিবিদ্ধ হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মধ্য বুড়িশ্চর ফতেহ মো. তালুকদার বাড়ির আরাফাতকে স্থানীয়ভাবে ‘ডন আরাফাত’ নামে পরিচয় দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আরাফাত চুরি, ছিনতাই ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং এলাকার তরুণদের বিপথে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়ভাবে ‘আরডিএক্স’ নামে একটি কিশোর গ্যাংয়ের কথাও আলোচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই গোষ্ঠীর কিছু সদস্য মাদক, মারামারি, ভয়ভীতি, হুমকি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। ফলে এলাকার অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তরুণদের একটি অংশ পড়াশোনা ছেড়ে অপরাধের পথে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধের ধরন যে শুধু ছোটখাটো মারামারিতে সীমাবদ্ধ নেই, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতেও তার প্রমাণ মিলছে। নগরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র প্রদর্শন ও হামলার অভিযোগে গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে।
এদিকে হাটহাজারীতেও অপরাধী চক্রের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। গত জুলাইয়ে সেখানে এক ব্যবসায়ীর গাড়িতে গুলি ও হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও তখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মাদক, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ও অপরাধীচক্রের সঙ্গে কিশোরদের সম্পৃক্ততার পথ বন্ধ করা জরুরি।
তাঁদের মতে, এখনই কঠোরভাবে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন। অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের আরো উৎসাহিত করতে পারে। ফলে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৮/২০২৬