আবদুল্লাহ আল মামুন, সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের দাসপাড়ায় বসতবাড়ির গাছ কেটে রাস্তা নির্মাণে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় এক নারী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত শ্যামলী দাসকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং হামলার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়ার বাসিন্দা নিত্ত দাসের বসতভিটার পাশ দিয়ে কয়েকটি পরিবারের চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য নিত্ত দাসের লাগানো আমগাছ কেটে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করা হলে তিনি এতে আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাকিমের নির্দেশে প্রতিপক্ষের লোকজন রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় নিত্ত দাসের ঘর নির্মাণের জন্য রাখা ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছিল। নিত্ত দাসের ছেলে রমেশ দাসের স্ত্রী শ্যামলী দাস এতে বাধা দিলে কার্তিক, মিলন, শংকর, সুবল ও তাঁর স্ত্রী-ছেলে সপনসহ কয়েকজন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা শ্যামলীকে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একপর্যায়ে তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর এবং ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। এ সময় শ্যামলীর দেবর সমীর দাসের স্ত্রী গৌরী দাস তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শ্যামলী ও গৌরী দাসের গলা ও কান থেকে স্বর্ণের গহনা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গহনার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় শ্যামলী গুরুতর আহত হয়ে শ্বাসকষ্ট ও অচেতন অবস্থায় পড়লে খবর পেয়ে তাঁর স্বামী রমেশ ও দেবর সমীর ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে রমেশ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, পুলিশকে বিষয়টি জানানো হলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁদের ওপর পরবর্তী সময়ে আবারো হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, ওই দিন রাত ১১টার দিকে প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নিত্ত দাসের বাড়িতে গিয়ে তাঁর লাগানো গাছ কেটে আবারো রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় নিত্ত দাসের পরিবারের সদস্যদের জানমালের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে অভিযোগকারীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য হাকিমের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বিরোধের সালিশে তিনি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে এক পক্ষকে সুবিধা দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য হাকিমের বক্তব্য জানা যায়নি।
ঘটনার পর গত ১৭ আগস্ট সন্ধ্যার পর সাতক্ষীরা সদর থানায় এএসআই আতিকুর রহমানের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, ওই বৈঠকে ইউপি সদস্য হাকিমের নেতৃত্বে প্রায় ৩০ জন লোক থানায় উপস্থিত হন। একপর্যায়ে হাকিম ক্ষিপ্ত হয়ে নিত্ত দাসকে চড় মারতে উদ্যত হন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
এদিকে ঘটনাটির তথ্য সংগ্রহ করতে থানায় গেলে প্রতিবেদককেও মেম্বার হাকিমের সঙ্গে থাকা লোকজন জীবননাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে অপারেশন কর্মকর্তা নিজ দায়িত্বে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত হামলা, ছিনতাই, পক্ষপাতিত্ব ও হুমকির অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষের দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে; তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৮/২০২৬