জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজশাহীতে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনসহ ৩৪ জনকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একই মামলায় গ্রেফতার রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. আসাদুজ্জামান আসাদ, ডাবলু সরকার, জহিরুল ইসলাম রুবেল ও মোহাইমিনুল ইসলাম মানিককে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের প্যানেল এ আদেশ দেন। শুনানি শেষে আদালত মোট ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতার ও হাজিরা পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন-বিপ্লব বিজয় তালুকদার, হুমায়ুন কবির, রকি কুমার ঘোষ, রাশিক দত্ত, বাপ্পী চৌধুরী রনি, মহিদুল ইসলাম মোস্তফা, খালিদ হাসান বিপ্লব, রাশেদুল করিম রোজেল, মেহেদী হাসান ওরফে রনি, জেডু সরকার ওরফে জাবেদুর রহমান, আব্দুল হামিদ সরকার ওরফে টেকন, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনার, আরমান আলী, আব্দুল মোমিন, শাহাদত হোসেন শাহু, তৌহিদুল হক সুমন, মাহতাব হোসেন চৌধুরী ও আলাউদ্দিন ওরফে আলাল।
এ ছাড়া সরিফুল ইসলাম বাবু, মো. নাবিল হাসান, মাহমুদুল হাসান রাজীব, ফরহাদ হোসেন বিপ্লব, তৌরিদ আল মাসুদ রনি, মেহেদী হাসান রিমেল ওরফে রিগেন, আশরাফুল ইসলাম জাফর, সুকান্ত কুমার দাস, ফয়সাল আহমেদ রুনু, নুর মোহাম্মদ সিয়াম, আসাদুল্লা-হিল-গালিব, গোলাম কিবরিয়া, আলাল পারভেজ লুলু, মনিরুজ্জামান খান ওরফে মনির এবং শফিকুজ্জামান ওরফে শফিকের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, মার্জিনা রায়হান, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তারেক আবদুল্লাহ।
শুনানির সময় প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন ঘটনার বিবরণ তুলে ধরার পাশাপাশি তিনটি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করেন। ভিডিওতে আসামিদের অস্ত্র হাতে গুলি করার দৃশ্য রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন এবং জহিরুলসহ কয়েকজনকে শনাক্ত করেন।
পরে অভিযোগ আমলে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং গ্রেফতার চার আসামির বিরুদ্ধে হাজিরা পরোয়ানা জারির আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদন মঞ্জুর করেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে দুপুরে রাজশাহী মহানগরের বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের বিপরীতে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টের সামনে আন্দোলনকারী রায়হান আলীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই সময়ে শাহ মখদুম কলেজের সামনে নিহত হন আনজুম সাকিব। এ ঘটনায় সালমান ওরফে শিমুলসহ আরো অনেকে আহত হন।
শেখেরচক স্বচ্ছ টাওয়ারের সামনে, শাহ মখদুম কলেজের সামনে, পদ্মা নদীর বেড়িবাঁধ, আলুপট্টি মোড় ও আশপাশের এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। এর আগে গত ৩০ জুলাই ৩৮ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল।
সানা/আপ্র/১৮/৮/২০২৬