ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভরাডুবির পর দলে একটি পরিবর্তন এনেছে অস্ট্রেলিয়া। বাদ পড়েছেন বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া ওপেনার জেইক ওয়েদেরল্ড।
তিন বছর পর টেস্ট দলে ফিরেছেন আরেক বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ম্যাট রেনশ। ম্যাকাইয়ে আগামী শনিবার শুরু হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। শুরুতে দুই টেস্টের জন্যই ১৩ সদস্েযর দল ঘোষণা করেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯ উইকেটে হারের পর পরিবর্তনের ডাক দেন সাবেক ক্রিকেটাররা।
এরপর মঙ্গলবার দুই লাইনের এক বিবৃতিতে একটি পরিবর্তন আনার কথা জানায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাটিং টেকনিকে পরিবর্তন আনা ওয়েদেরল্ড ডারউইন টেস্টে ভালো করতে পারেননি। দুই ইনিংসেই হাসান মাহমুদের বলে আউট হন তিনি। প্রথম ইনিংসে করেন ২৩ রান, পরেরটিতে ফেরেন শূন্য রানে।
সবে টেকনিকে পরিবর্তন আনায় তাকে আরেকটু সময় দেওয়ার পক্ষে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড। চলতি বছরের শুরুতে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পান ওয়েদেরল্ড।
৩১ বছর বয়সী স্বীকার করেন, টিকে থাকতে হলে তার রান করতে হবে। তিনি আশা করেছিলেন দুই টেস্টেই খেলার সুযোগ পাবেন।
“আপনার সব সময় রান করতে হবে। আমি দুই ম্যাচ খেলার ভালো সুযোগ পেয়েছি। আশা করি, রান করার জন্য চার ইনিংস পাব। যদি করতে না পারি, তাহলে ভাগ্য অন্য কারও হাতে চলে যাবে।” তার বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া ৩০ বছর বয়সী রেনশ ২০২৩ সালে সবশেষ টেস্ট খেলেন।
ব্রিজবেনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রস্তুতি ক্যাম্পের পর তাকে অপেক্ষামান রাখা হয়। শেফিল্ড শিল্ডের সবশেষ মৌসুমে ৪৯.৯০ গড় ও তিন সেঞ্চুরিতে ৪৯৯ রান করেন। পাশাপাশি সীমিত ওভারের ক্রিকেটে আছেন দারুণ ছন্দে। এছাড়া, ম্যাথু শর্টের বদলি হিসেবে শেষ মুহূর্তে সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা পান।
এখন পর্যন্ত ১৪ টেস্ট খেলা রেনশ ২৯.৩১ গড়ে করেছেন ৬৪৫ রান। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ক্যারিয়ার সেরা ১৮৪ রানের ইনিংস। এই পরিবর্তনের ফলে ২০২৪ সালে ডেভিড ওয়ার্নারের বিদায়ের পর একজন ওপেনার খুঁজে ফিরছে অস্ট্রেলিয়া।
উসমান খাওয়াজাকে বাদ দিলে রেনশ হতে পারেন ওয়ার্নারের বিদায়ের পর ওপেনিংয়ে খেলা সপ্তম ক্রিকেটার। সবশেষ অ্যাশেজে পার্থ টেস্টে খাওয়াজার চোটের পর ওপেনিংয়ে জায়গা পান ট্রাভিস হেড।
ওপেনার হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছেন তিনি। অপরপ্রান্তে এই সময়ে স্টিভেন স্মিথ, ন্যাথান ম্যাকসুয়েনি, স্যাম কনস্টাস, মার্নাস লাবুশেন ও ওয়েদেরল্ডকে ওপেনিংয়ে খেলানো হয়েছে।
ডারউইনে প্রথম টেস্টে ১ ও ৩১ রান করে চাপে থাকা লাবুশেন দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের ফুল-লেন্থ ডেলিভারি মিস করে আউট হন। এরপরেও ম্যাকাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টের দলে জায়গা ধরে রেখেছেন।
কিন্তু, এটাই হতে পারে তার দলে জায়গা ধরে রাখার সবশেষ সুযোগ। ডারউইন টেস্টে বাড়তি ব্যাটসম্যান হিসেবে দলের সঙ্গে ছিলেন কেবল জশ ইংলিস। তার টপ অর্ডারে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। বাড়তি পেসার হিসেবে আছেন স্কট বোল্যান্ড। মূল পেসারদের কাউকে বিশ্রাম দেওয়া হলে তাকে বিবেচনা করা হবে।
চোট থেকে ফিরে প্রথম টেস্টে সাত উইকেট নিয়েছেন জশ হেইজেলউড।
ফলে পেস বোলিংয়ে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড: প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), স্কট বোল্যান্ড, অ্যালেক্স কেয়ারি, ক্যামেরন গ্রিন, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, ন্যাথান লায়ন, স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্ক, ম্যাট রেনশ, বাউ ওয়েবস্টার।
ডিসি/আপ্র/১৮/০৮/২০২৬