আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বৈধ দুই প্রার্থীর কেউই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অলি আহমেদ বীর বিক্রম ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়। এরপর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরের সামনে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টা পার হলেও বৈধ দুই প্রার্থীর কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে আগামী ২০ আগস্ট দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।
২০ আগস্ট সংসদে ভোট: ইসি সচিব জানান, ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটগ্রহণ শুরুর আগে নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের অবহিত করবেন। এরপর শুরু হবে ভোটগ্রহণ।
যেভাবে ভোট দেবেন সংসদ সদস্যরা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ব্যালট পেপার প্রস্তুত করা হবে। এতে দুটি অংশ থাকবে-মুড়ি অংশ ও মূল ব্যালট অংশ।
মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোট প্রদানকারী সংসদ সদস্যের নাম ও বিভক্তি নম্বর। নির্ধারিত স্থানে পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে সংসদ সদস্য ব্যালট গ্রহণ করবেন।
মূল ব্যালট অংশে বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী দুই প্রার্থীর নাম ছাপা থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দিতে হবে।
ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য: আখতার আহমেদ জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। তাঁদের জন্য ৩৪৯টি ব্যালট প্রস্তুত থাকবে। তবে ভুলের সম্ভাবনা বিবেচনায় কিছু অতিরিক্ত ব্যালটও রাখা হতে পারে।
ভোটগ্রহণ বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের পর আর কোনো ব্যালট গ্রহণ করা হবে না।
সংসদেই ঘোষণা হবে ফল: ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট গণনা করা হবে। এ সময় কতজন ভোট দিয়েছেন, কতটি ব্যালট বৈধ ও বাতিল হয়েছে এবং কতটি ব্যালট অব্যবহৃত রয়েছে-এসব তথ্য নির্ধারণ করা হবে।
ইসি সচিব বলেন, প্রাপ্ত বৈধ ভোটের মধ্যে যিনি বেশি ভোট পাবেন, নির্বাচনি কর্তা প্রাথমিকভাবে সংসদ কক্ষেই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন।
পরে নির্বাচন কমিশনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করা হবে। প্রাথমিক ফলাফল পাওয়ার পর খুব বেশি সময় না নিয়েই গেজেট প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার চারটি ধাপের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ধাপ শেষ হয়েছে। এখন ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, ‘৩৫ বছর পরে আমাদের সবারই একটা নতুন অভিজ্ঞতা হবে।’
ব্যালট পেপার আগেই সংসদে পাঠানো হবে না জানিয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ভোটের দিন নির্বাচন সহায়ক কর্মকর্তারা নিজেরাই ব্যালট পেপার নিয়ে সংসদ সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন। রাষ্ট্রপতির শপথ কে পাঠ করাবেন-এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘শপথের ব্যাপারটা পরে।’
সানা/আপ্র/১৮/৮/২০২৬