অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়া সেই জয়ের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর সেই ম্যাচে বল হাতে যেভাবে দাপট দেখিয়েছেন পেসাররা, তা নজর কেড়েছে ক্রিকেটবিশ্বেরও।
হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন সেই পেস ইউনিটে এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদরাও রেখেছেন সমান দক্ষতার ছাপ। পুরো সফরজুড়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তারা প্রতিটি ম্যাচেই।
সফর শেষে দেশে ফিরে সেই পারফরম্যান্স নিয়েই আশাবাদ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের।
তার মতে, প্রতিপক্ষের মাটিতে গিয়ে টেস্ট জিততে হলে পেসারদের সাফল্যের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় পুরো ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার কঠিন কাজটি মূলত পেসারদেরই সামলাতে হয় বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে তালহা বলেন, পেস বোলাররা যখন ছন্দে থাকেন, তখনই বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের স্বপ্ন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করে—কারণ সেখানে গোটা ২০ উইকেট তুলে নেওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হয়।
দলের জন্য এটিকে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে অভিহিত করে তিনি প্রত্যাশা প্রকাশ করেন, পেসাররা যেন তাদের এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন।
সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের জয়ের ভিত মূলত গড়ে দিয়েছিলেন পেসাররাই। প্রথম ইনিংসে একাই ৬ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন হাসান মাহমুদ। ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়েই কার্যকর বোলিং উপহার দেন বাংলাদেশের পেস বিভাগ।
শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে যে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় আসে, তার পেছনে পেসারদের অবদানই ছিল সবচেয়ে বড়।
তালহার বক্তব্যেও উঠে এসেছে এই একই বাস্তবতার প্রতিফলন। তার ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের পেসাররা এখন বিদেশের কন্ডিশনেও ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো সামর্থ্য অর্জন করেছেন। নতুন বলে দ্রুত উইকেট তুলে নেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বজায় রাখার কঠিন কাজটিও তারা সামলাচ্ছেন যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গে।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শেষ পর্যন্ত ১-১ ব্যবধানে সমতায় শেষ হলেও, অস্ট্রেলিয়া সফরের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশের শক্তিশালী পেস আক্রমণের এই উত্থান। বিদেশের মাটিতে পূর্ণ ২০ উইকেট নেওয়ার স্বপ্ন দেখার মতো একটি বোলিং ইউনিট গড়ে ওঠার স্পষ্ট আভাসও মিলেছে এই সফরে।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের পেসাররা যে দাগ কেটে এসেছেন, সেটিকেই সফরের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন কোচ তালহা। তার কথায়, খোদ অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গিয়ে দাপটের সঙ্গে তাদেরই হারিয়ে দেওয়াটা অত্যন্ত বড় একটি অর্জন—প্রথম টেস্টের কোনো সেশনেই প্রতিপক্ষ তাদের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি।
ডিসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬