কংক্রিটের জঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া মানুষের অনুভূতিগুলো কি এখনও বেঁচে আছে? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই নির্মিত হয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আরও কিছুক্ষণ’।
ব্যস্ততা আর যান্ত্রিকতায় মোড়া এক শহরে দুই অচেনা মানুষের ক্ষণিকের সাক্ষাৎ ঘিরে আবর্তিত এই গল্পের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় আছেন রুবায়েত মাহমুদ, আর কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানকে।
সিনেমাটির নির্মাণ-ভাবনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুবায়েত মাহমুদ জানান, নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে গল্প বলার তাগিদ থেকেই এই কাজে হাত দেন তিনি। তার বর্ণনায়, এটি মূলত এক ব্যস্ত ও যান্ত্রিক শহরের বুকে দুই আগন্তুকের কিছু মুহূর্তের আখ্যান—যেখানে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে, পাথরে গড়া এই শহরেও সম্পর্কের সূত্র ধরে কীভাবে জন্ম নিতে পারে অনন্য কিছু মুহূর্ত।
শুধু গল্প বলাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই নির্মাতা, বিশেষ মনোযোগ দিয়েছেন চিত্রনাট্যের গাঁথুনিতেও। তার ভাষায়, ‘আরও কিছুক্ষণ’ নিছক একটি আখ্যান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট এক কাঠামো বা নিয়মের ভিত্তিতে গড়া একটি রচনা।
কেন্দ্রীয় চরিত্রে সাদিয়া আয়মানের পারফরম্যান্স নিয়ে বিশেষভাবে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। তার মতে, চরিত্রটি নির্মাণের জন্য শুধু সংলাপ বা দৃশ্যায়ন যথেষ্ট ছিল না—এতে মিশে ছিল বহু সূক্ষ্ম, অব্যক্ত অনুভূতি, যেগুলো সাদিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
সাদিয়ার বিপরীতে সিনেমাটিতে দেখা যাবে শফিন আহমেদকে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাণের জগতে সক্রিয় এবং নিজেও একজন পরিচিত নির্মাতা। অভিনয়ের জগৎটা তার জন্য সম্পূর্ণ নতুন হলেও, চরিত্রের চাহিদা অনুযায়ী তার ব্যক্তিত্ব ও পর্দা-উপস্থিতিকে যথাযথ মনে করেছেন পরিচালক রুবায়েত।
কারিগরি দিক থেকেও যথেষ্ট যত্নের ছাপ রয়েছে সিনেমাটিতে।
চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন রিপন চৌধুরী, সম্পাদনা করেছেন মাজহার রনি এবং কালার গ্রেডিংয়ের কাজ সেরেছেন চিন্ময় রায়। সিনেমার আবহসংগীত ও গান কম্পোজ করেছেন জাহিদ নিরব, আর এক্সিকিউটিভ প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন মো. শামীম মাহমুদ শাতু।
প্রায় ২৯ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি দর্শকদের সামনে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ‘জি সিরিজ’ প্ল্যাটফর্মে।
ডিসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬