গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পান্থাপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিনের ভোগদখলে থাকা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষের সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে হামিদা বেগমের পরিবার। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় গোবিন্দগঞ্জ রিপোর্টার্স ফোরাম কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হামিদা বেগমের ছেলে বাবু মিয়া। তিনি অভিযোগ করেন, গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পান্থাপাড়া মৌজায় তার মা হামিদা বেগম ১৯৮৯ সালে আবদুল মালেক প্রধানের কাছ থেকে ২৭ শতক জমি কিনে নেন। জমি কেনার পর থেকে প্রায় ৩৭ বছর ধরে তারা সেটি ভোগদখল করে আসছেন।
বাবু মিয়ার দাবি, সম্প্রতি ফজলুল বারী ও আইরিন পারভীনসহ কয়েকজন ওই জমির মালিকানা দাবি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখার পরামর্শ দেয়।
এরপর ফজলুল বারী ও আইরিন পারভীনসহ কয়েকজন গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৪৩১/২০২৫। বাবু মিয়ার ভাষ্য, আদালত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও আইরিন পারভীন ওই নির্দেশ অমান্য করে জমিতে একটি ছাপরা ঘর তুলে দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিতে গেলে হামিদা বেগমের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় আরো একটি মামলা করা হয়েছে। এর নম্বর ৩৩৭/২০২৬। এ ছাড়া দণ্ডবিধির ১০৭ ও ১০৮ ধারাসংক্রান্ত ৫১৪/২০২৬ নম্বর মামলাটিও বিচারাধীন রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বাবু মিয়া অভিযোগ করেন, গত ২৭ আগস্ট আইরিন পারভীনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গোবিন্দগঞ্জ প্রেসক্লাবে হামিদা বেগমের পরিবারের বিরুদ্ধে যে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাতে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ওই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন হামিদা বেগমের পরিবারের সদস্যরা। তবে জমির মালিকানা, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং হামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৯/৮/২০২৬