সংখ্যায় দেখা যাচ্ছে মাত্র দুটি লড়াই, অথচ ফলাফল বলছে অন্য গল্প—দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে যেন হারতেই ভুলে গেছে নামিবিয়া। ত্রি-দেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ১৮ রানের স্বস্তিদায়ক ব্যবধানে প্রোটিয়াদের হারিয়ে নিজেদের আধিপত্যের ধারা অব্যাহত রাখল স্বাগতিকরা।
গত শুক্রবার নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোকের মাঠে গড়ানো সিরিজের উদ্বোধনী লড়াইয়ে জয় দিয়েই যাত্রা শুরু করে আয়োজক দেশটি। এখন পর্যন্ত দুই দলের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে সাক্ষাৎ হয়েছে মোটে দুবার, আর দুবারই পরাস্ত হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল দক্ষিণ আফ্রিকা।
পরিসংখ্যানের এই ধারাবাহিকতা নামিবিয়ার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেবে, বিশেষত যখন সামনেই অপেক্ষা করছে আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপ—যেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের পাশাপাশি সহ-আয়োজকের দায়িত্বেও থাকছে নামিবিয়া নিজেই।
ম্যাচের টস হারার পর প্রথমে ব্যাট করতে বাধ্য হয় নামিবিয়া। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ১৬৩ রান। এই সংগ্রহে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ওপেনার জেন ফ্রাইলিঙ্কের—মাত্র ৩৮ বলের মোকাবিলায় ৬০ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনিংসের পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার জর্ডান হারম্যান ও লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস।
এই ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফেরার লড়াই চালান ডেওয়াল্ড ব্রেভিস, যিনি ৫০ বলে খেলেন ৭৫ রানের চোখধাঁধানো ইনিংস—যাতে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও চারটি চার। তবে তার এই একক লড়াই শেষ পর্যন্ত দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে যথেষ্ট হয়নি।
বল হাতেও এদিন আলো ছড়ান নামিবিয়ার বোলাররা। ব্যাট হাতে অবদান রাখার পর বোলিংয়েও কার্যকর প্রমাণিত হন জেজে স্মিট, ৩১ রানের বিনিময়ে নেন তিন উইকেট।
তার সঙ্গে সমান দাপট দেখান রুবেন ট্রাম্পেলম্যানও—২৪ রান খরচায় তিনিও শিকার করেন তিনটি উইকেট, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত বছর অক্টোবরে ৪ উইকেটের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর নজির গড়েছিল নামিবিয়া।
এবারের জয় সেই সাফল্যেরই ধারাবাহিকতা, যা প্রমাণ করছে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে নামিবিয়ার এই সাফল্য কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে ২৯ আগস্ট একই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ে।
ডিসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬