মৌসুমের শুরুতেই যেন বার্তা দিয়ে রাখল বায়ার্ন মিউনিখ—শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তারা আছে পুরোদমে প্রস্তুত। আক্রমণের ঝড় তুলে স্টুটগার্টকে রীতিমতো বিধ্বস্ত করে বুন্ডেসলিগা যাত্রা শুরু করল ভেসাঁ কোম্পানির শিষ্যরা।
আসরের উদ্বোধনী দিন শুক্রবার নিজেদের ঘরের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় পাঁচ গোলের উৎসব করে বায়ার্ন, জবাবে স্টুটগার্টের ঘরে জমা পড়ে মোটে একটি গোল—চূড়ান্ত ব্যবধান দাঁড়ায় ৫-১।
লড়াইয়ের প্রথম ভাঙন ধরে ২১তম মিনিটে। জশুয়া কিমিখের নিখুঁত কর্নার কিক থেকে দারুণ এক হেডে দলকে এগিয়ে নেন দাইয়ু উপামেকানো। এরপর বিরতি পর্যন্ত ব্যবধান আর বাড়েনি—কারণটা অবশ্য বায়ার্নের আক্রমণের ঘাটতি নয়, বরং প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের একের পর এক অসাধারণ সেভ, যা বিরতির আগ পর্যন্ত জার্মান চ্যাম্পিয়নদের হতাশায় রাখে। বিরতির পর মাঠে ফিরেই চমক দেখায় স্টুটগার্ট। ৫২তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জোরাল ভলিতে সমতা টেনে আনেন ভাগনোমান।
তবে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি—মাত্র তিন মিনিটের মাথায় কিমিখের চমৎকার থ্রু বল ফাঁকায় পেয়ে বায়ার্নকে ফের এগিয়ে দেন মাইকেল ওলিসে। এর দুই মিনিট পরই নাটকীয় এক মোড় নেয় ম্যাচ। আলফোনসো ডেভিসের ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজের জালেই বল জড়িয়ে বসেন দুর্ভাগা ভাগনোমান, যিনি কিছুক্ষণ আগেই গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন।
এই আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-১।
এরপর হ্যারি কেইনের পাস থেকে আরও একবার জাল খুঁজে পান ওলিসে, তবে অফসাইডের কাঁটাতারে আটকে যায় সেই প্রচেষ্টা। ম্যাচের শেষদিকে আসে আরও দুটি উপহার। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমে নিঃস্বার্থ এক পাস বাড়ান ইসমাইল সাইবারি, যা থেকে ৮২তম মিনিটে বায়ার্নের চতুর্থ গোলটি করেন আলেক্সান্দার পাভলোভিচ।
এরপর যোগ করা সময়ে দলের পঞ্চম গোলটি করেন লুইস দিয়াস—আর সেই গোলেও সহায়তা করেন মরক্কোর তরুণ সাইবারি, যার জন্য এটি ছিল বুন্ডেসলিগায় স্বপ্নের অভিষেক। এই জয়ে দারুণ ছন্দে আছে বায়ার্ন।
চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা দ্বিতীয় জয়—এর আগে গত সপ্তাহে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে জার্মান সুপার কাপের শিরোপাও ধরে রেখেছিল কম্পানির শিষ্যরা।
ডিসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬