ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের জন্য ইমোজির ব্যবহার এখন ব্যাপক। হাসি, কান্না, রাগ কিংবা ভালোবাসার মতো নানা অনুভূতি অল্প কথায় প্রকাশ করতে ইমোজির ব্যবহার করেন অনেকে। বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে হাজার হাজার ধরনের ইমোজি রয়েছে।
ইমোজির ব্যবহার নিয়ে ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি কী—এ নিয়েও অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে ফিকহবিদদের আলোচনায় ইমোজির ধরন ও তাতে ব্যবহৃত অবয়বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফিকহবিদদের মতে, মানুষ বা প্রাণীর স্পষ্ট আকৃতি বোঝা যায়—এমন ইমোজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে জীবজন্তুর পূর্ণাঙ্গ অবয়ব বা চেহারা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এমন ইমোজি ব্যবহারকে তারা জায়েজ মনে করেন না।
তবে যে ইমোজিতে মানুষের বা প্রাণীর পূর্ণাঙ্গ আকৃতি বোঝা যায় না এবং চোখ, নাক, মুখ, কানসহ স্পষ্ট অবয়ব নেই, সেগুলোকে নিষিদ্ধ ছবির আওতাভুক্ত মনে করা হয় না—এমন মতও রয়েছে।
এ বিষয়ে হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ছবি নির্মাতা জাহান্নামে যাবে। তার নির্মিত প্রতিটি ছবির পরিবর্তে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২২৫, ৫৯৬৩)
এই হাদিসের আলোকে ফকিহরা জীবজন্তুর আকৃতির ছবি ও অবয়ব তৈরির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। সে হিসেবে ফুল, ফল, গাছ, ব্যাট, বলসহ প্রাণীর আকৃতিবিহীন বিভিন্ন চিহ্ন বা বস্তুর ইমোজি ব্যবহার বৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে মানুষ বা জীবজন্তুর চেহারা ও অবয়ব স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে এমন ইমোজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ ইমোজি ব্যবহারকে এককভাবে নিষিদ্ধ বা বৈধ বলার পরিবর্তে এর ধরন ও অবয়ব বিবেচনা করা হয়। তাই প্রাণীর আকৃতিবিহীন সাধারণ প্রতীক ব্যবহারে সমস্যা নেই; তবে মানুষ বা প্রাণীর স্পষ্ট চেহারা বোঝা যায়—এমন ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
সূত্র: ফতোয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দ, ফতোয়ায়ে বানুরী টাউন
এসি/আপ্র/২৯/০৮/২০২৬