আজ বুধবার (২৬ আগস্ট, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি), যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত এই দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দিবসটির অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস শুরু হয়েছে ১৫ আগস্ট। সে অনুযায়ী আজ ২৬ আগস্ট বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করছে।
মহানবী (সা.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায়, সাম্য, সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা, ওয়াজ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেও ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর জীবন ও কর্ম, ইসলামের শান্তি, সৌহার্দ্য, সহিষ্ণুতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা, সেমিনার, ওয়াজ মাহফিল, হামদ-নাত, কিরাতসহ বিভিন্ন আয়োজন রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগেও দিবসটি উপলক্ষে ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে র্যাব। নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৫আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা করেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি ঝুঁকি বিবেচনায় আগেই প্রয়োজনীয় সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, স্থানীয় মসজিদের ইমাম, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক নেতা ও নাগরিক নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদেরও নিরাপত্তা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কোনো স্বার্থান্বেষী মহল, সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে ঈদে মিলাদুন্নবীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে হামলা, নাশকতা বা অন্য কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
বিতর্কিত ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতেও নজরদারি রাখা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় র্যাবের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও কুকুর দলকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি শনাক্ত করতে সাইবার নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম সম্পর্কে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে র্যাব।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পালিত হবে দিনটি: ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মীয় আলোচনা ও ওয়াজ মাহফিলে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি এতিমখানা, শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ও বৃদ্ধনিবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। দেশের বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও মিশনেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের কর্মসূচি রয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদপত্রেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ আয়োজন রয়েছে।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়ে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ন্যায়, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও শান্তির চর্চা বাড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করা হচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সানা/আপ্র/২৬/৮/২০২৬