গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ভয়াবহ হওয়ার আগেই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিবৃদ্ধির সংকেত মিলবে

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:০৬ পিএম, ২৬ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৫০ এএম ২০২৬
ভয়াবহ হওয়ার আগেই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিবৃদ্ধির সংকেত মিলবে
ছবি

বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট নোরিজের এক প্রতিবেদনে গবেষণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে

বিধ্বংসী রূপ নেওয়ার প্রায় এক দিন আগেই সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড়ের দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রাথমিক সংকেত শনাক্ত করার নতুন উপায় খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, নতুন এই পদ্ধতি কাজে লাগানো গেলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড়ের আকস্মিক শক্তিবৃদ্ধি সম্পর্কে আগাম সতর্ক হওয়ার অতিরিক্ত সময় পাবে।

মার্কিন জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের হারিকেন পর্যবেক্ষণকারী উড়োজাহাজ থেকে ২৮ বছর ধরে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের গবেষকেরা। বিজ্ঞানভিত্তিক ওয়েবসাইট নোরিজের এক প্রতিবেদনে গবেষণার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ব্যাপক মাত্রায় শক্তিশালী হওয়ার আগে তার বিভিন্ন স্তরের ঘূর্ণনকেন্দ্রকে প্রায় একই উল্লম্ব রেখায় চলে আসতে হয়। গবেষকেরা এই প্রক্রিয়াকে ঘূর্ণিঝড়ের ‘সোজা হয়ে দাঁড়ানো’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ঝড়ের এই কাঠামোগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করেই দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির সম্ভাবনা আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে বায়ুমণ্ডলের উচ্চ স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত বিশাল ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহ। অনুকূল পরিবেশে এর বিভিন্ন উচ্চতার ঘূর্ণনকেন্দ্র একটি আরেকটির প্রায় ওপর অবস্থান করে। কিন্তু বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে শক্তিশালী বাতাস থাকলে তা সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছের মূল কেন্দ্রের তুলনায় ঝড়ের ওপরের অংশকে অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের কাঠামো হেলে পড়ে।

বায়ুমণ্ডলের নিম্ন ও মধ্যম স্তরের ঘূর্ণনকেন্দ্রের মধ্যে এই দূরত্বকে আবহাওয়াবিদেরা ঝড়ের হেলে পড়া হিসেবে বিবেচনা করেন। বিভিন্ন উচ্চতায় বাতাসের গতি বা দিকের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন, অর্থাৎ উল্লম্ব বায়ুপ্রবাহের তারতম্য, এ ধরনের হেলে পড়ার অন্যতম কারণ।

অতিরিক্ত হেলে থাকা ঘূর্ণিঝড় সাধারণত দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করতে পারে না। তবে ঝড়ের বিভিন্ন স্তর যখন পুনরায় প্রায় একই উল্লম্ব রেখায় চলে আসে, তখন সেটি শক্তিশালী হওয়ার অনুকূল পরিবেশ পায়। গবেষকেরা এমন চারটি বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছেন, যা ঝড়কে এভাবে সুসংগঠিত হতে সহায়তা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ঝড় শেষ পর্যন্ত সোজা হয়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়, সেগুলোর সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি শক্তিশালী ও সুসংগঠিত ঘূর্ণন বলয় থাকে। একই সঙ্গে ঝড়ের হেলে থাকা অংশটি আশপাশের বাতাসের গতির সঙ্গে তুলনামূলকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। ঝড়ের তলদেশীয় কেন্দ্রের কাছে শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ এবং ব্যাপক বজ্রঝড়ও দেখা যায়।

এ ছাড়া ঝড়ের আশপাশের পরিবেশও শক্তিশালী হওয়ার জন্য অনুকূল থাকে। এর মধ্যে রয়েছে উষ্ণ সমুদ্রের পানি, বায়ুমণ্ডলে পর্যাপ্ত জলীয় বাষ্প এবং বায়ুমণ্ডলের মধ্যস্তরে তুলনামূলক শান্ত বাতাস। এসব উপাদান একসঙ্গে কাজ করে ঝড়ের বিভিন্ন স্তরকে পুনরায় সুসংগঠিত হতে সহায়তা করে।

গবেষকেরা ১৯৯৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা ২৮টি হারিকেন মৌসুমে হারিকেন পর্যবেক্ষণকারী উড়োজাহাজ থেকে সংগৃহীত ১ হাজার ৫১০টি রাডার পর্যবেক্ষণের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। এসব তথ্য নিয়ে তৈরি তথ্যভান্ডার পর্যালোচনা করে তাঁরা ঝড় শক্তিশালী হওয়ার আগে কাঠামোগত পরিবর্তনের নির্দিষ্ট ধরন শনাক্ত করেন।

যেসব ঘূর্ণিঝড় শেষ পর্যন্ত দ্রুত শক্তিশালী হয়েছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রায় এক দিন আগেই কিছু স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যায়। ঝড়ের নিচের অংশে তুলনামূলক শক্তিশালী ও সুসংগঠিত বায়ুপ্রবাহের পাশাপাশি কেন্দ্রের কাছে শক্তিশালী বজ্রঝড় তৈরি হতে দেখা যায়। এসব বজ্রঝড় শুধু ঝড়ের সুসংগঠিত হওয়ার লক্ষণ নয়; এর ভেতরের শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী বায়ুপ্রবাহ ঝড়ের হেলে থাকা অংশকে টেনে প্রায় উল্লম্ব অবস্থায় আনতেও সহায়তা করতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

ঘূর্ণিঝড়ের দ্রুত শক্তিবৃদ্ধি, অর্থাৎ অল্প সময়ে ঝড়ের শক্তি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে এই গবেষণা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ কোনো ঝড় অল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ শক্তি অর্জন করলে উপকূলীয় মানুষকে সরিয়ে নেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা এবং জরুরি উদ্ধার তৎপরতা শুরু করার জন্য হাতে থাকা সময় দ্রুত কমে যায়।

হারিকেন পর্যবেক্ষণকারী উড়োজাহাজগুলো নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে ইতিমধ্যে গবেষণায় চিহ্নিত অনেক বৈশিষ্ট্যের তথ্য সংগ্রহ করছে। এসব বাস্তব সময়ের তথ্য আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস আরো নির্ভুল করতে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে কম্পিউটারভিত্তিক আবহাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস মডেলের সক্ষমতা যাচাই এবং উন্নত করতেও গবেষণার ফল কাজে লাগানো সম্ভব।

গবেষকদের মতে, ঝড় ভয়াবহ শক্তি অর্জনের মাত্র এক দিন আগেও যদি এর প্রাথমিক সংকেত নির্ভরযোগ্যভাবে শনাক্ত করা যায়, সেটিও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। ওই অতিরিক্ত সময়ের সদ্ব্যবহার করে উপকূলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া, জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত করা এবং জীবন রক্ষার অন্যান্য পদক্ষেপ আরো দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে। 
সানা/আপ্র/২৬/৮/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মঙ্গলে ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স
১৪ অক্টোবর ২০২৬

মঙ্গলে ৪৫ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স

মঙ্গল গ্রহের বুকে দূরনিয়ন্ত্রিত যান চালনার ক্ষেত্রে দীর্ঘতম পথ পাড়ি দেওয়ার রেকর্ড গড়েছে মার্কিন মহাক...

এআই অপব্যবহারে জৈব সন্ত্রাস ও সাইবার হামলার শঙ্কা গেটসের
১৩ অক্টোবর ২০২৬

এআই অপব্যবহারে জৈব সন্ত্রাস ও সাইবার হামলার শঙ্কা গেটসের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সবচেয়ে তাৎক্ষণিক বিপদ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া প্রযুক্তি নয়, বরং অপরাধ...

৬৬ বছর আগের গবেষণায় ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস
১৩ অক্টোবর ২০২৬

৬৬ বছর আগের গবেষণায় ১৩ নভেম্বর পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস

আর মাত্র এক মাস পরই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে- এমন দাবি করেছিল ৬৬ বছর আগের একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা। ১৯৬০ স...

৫০ বছরের কম বয়সিদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার বাড়ছে
০৭ অক্টোবর ২০২৬

৫০ বছরের কম বয়সিদের কয়েক ধরনের ক্যান্সার বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে ৫০ বছরের কম বয়সিদের মধ্যে কয়েক ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ইংল্যান্ড, যুক্তর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে