গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ফ্ল্যাট বিক্রির প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা গ্রেফতার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:১৮ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১২ এএম ২০২৬
ফ্ল্যাট বিক্রির প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিদিশা গ্রেফতার
ছবি

বিদিশা সিদ্দিক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পরোয়ানা থাকায় মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দাউদ হোসেন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতারণার একটি মামলায় বিদিশার দুই বছরের সাজা হয়েছে। আদালত থেকে সাজা পরোয়ানা আসার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। একই রায়ে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে তার সঙ্গে ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়। পরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন মোশাররফ। এরপর উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি টাকা পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে মামলায় বলা হয়েছে। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মোশাররফকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যাত হয়।

বাদীর অভিযোগ, এরপর বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট—কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়, বিদিশা জানিয়েছিলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত মোশাররফকে অপেক্ষা করতে হবে।

ফ্ল্যাট বিক্রির ওই ঘটনায় মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালে গুলশান থানায় প্রতারণার মামলা করেন।

এদিকে, গত ২০ মে মামলার রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানতে বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেছিলেন, এ মামলার বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই।
সানা/আপ্র/২৫/৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

গুমের বিচারে জামায়াতকে প্রাধান্যের অভিযোগ সানজিদার
২৫ আগস্ট ২০২৬

গুমের বিচারে জামায়াতকে প্রাধান্যের অভিযোগ সানজিদার

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্তদের মাম...

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত, এগোচ্ছে আলোচনা
২৫ আগস্ট ২০২৬

চীনের জে-১০সিই যুদ্ধবিমান কিনতে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত, এগোচ্ছে আলোচনা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের তৈরি জে-১০সিই বহুমুখী যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ...

দাতা নয়, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে দেখে ইইউ
২৫ আগস্ট ২০২৬

দাতা নয়, কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে দেখে ইইউ

বাংলাদেশের সঙ্গে পুরোনো দাতা-গ্রহীতা সম্পর্কের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন দৃষ্...

জামায়াতের মতাদর্শ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান কওমি আলেমদের
২৫ আগস্ট ২০২৬

জামায়াতের মতাদর্শ নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান কওমি আলেমদের

রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আ’লা মওদুদ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে