ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন অনুযায়ী নাগরিকত্ব পেতে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া ব্যক্তিদের ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারীকে নাগরিকত্বের সনদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তিনি বলেছেন, যারা এখনো নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেননি, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন। ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ‘হিন্দু শরণার্থীদের’ দ্রুত নাগরিকত্বের সনদ দিতে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক দপ্তর নবান্নে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন বলে দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের অধীনে নাগরিকত্বসংক্রান্ত শুনানি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করে দ্রুত সনদ দেওয়া হবে। ২ লাখ ৩০ হাজার আবেদনের মধ্যে ২৩ হাজার আবেদনকারী ইতিমধ্যে নাগরিকত্বের সনদ পেয়েছেন। আরো ২ লাখ ৭ হাজার আবেদন এখনো বিচারাধীন।
তিনি বলেন, ‘ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু শরণার্থীদেরও দ্রুত আমরা নাগরিকত্ব সনদ দেব।’
দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের সনদের অপেক্ষায় থাকা মতুয়া সম্প্রদায় ও অন্যান্য হিন্দু শরণার্থীদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আমার কাছ থেকেই এই সনদ পাবেন। ভারত সরকার আমাকে এই দায়িত্ব দিয়েছে।’
ভারতের পার্লামেন্টে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধন আইন পাস হয়। পরে কেন্দ্রীয় সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে দেশজুড়ে আইনটি কার্যকর করে।
আইনটির উদ্দেশ্য হলো-ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানে ‘ধর্মীয় নিপীড়নের’ শিকার হয়ে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানদের নাগরিকত্ব দেওয়া।
২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের অধীনে শরণার্থীদের আবেদন শুনানি ও নাগরিকত্ব সনদ দেওয়ার প্রশাসনিক ক্ষমতা দিয়েছে।
এর আগে গত ১ আগস্ট শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, রাজ্যে নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের অধীনে নাগরিকত্বের সব মুলতবি আবেদন আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে।
সানা/আপ্র/২৫/৮/২০২৬