চীনে প্রায় ৩০ লাখ টেসলা গাড়ি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির এক্সপেং, শাওমি ও জিলি ব্র্যান্ডের গাড়িও প্রত্যাহারের আওতায় আসছে। সব মিলিয়ে এ উদ্যোগের আওতায় পড়ছে ৪০ লাখের বেশি গাড়ি।
গাড়ির বাইরে থেকে দরজার হাতল সহজে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের দ্রুত বের হতে সমস্যা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
টেসলা জানিয়েছে, তাদের কিছু মডেল ৩, মডেল ওয়াই, মডেল এস ও মডেল এক্স গাড়ির দরজার হাতল গাড়ির ভেতরের অংশের রঙের সঙ্গে প্রায় একই হওয়ায় সেগুলো সহজে খুঁজে পাওয়া ও ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বড় ধরনের দুর্ঘটনায় গাড়ির স্বল্প-ভোল্টেজ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলে দরজা খোলা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। এতে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীদের বের হওয়া এবং বাইরে থাকা উদ্ধারকারীদের দরজা খোলায় সমস্যা হতে পারে।
সতর্কতামূলক লেবেল ও সফটওয়্যার হালনাগাদ
প্রত্যাহারের আওতায় থাকা গাড়িগুলোতে দরজার ভেতরে সতর্কতামূলক লেবেল লাগানো হবে। পাশাপাশি সফটওয়্যার হালনাগাদ করা হবে, যাতে দুর্ঘটনা ঘটলে গাড়ির জানালা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুটা নিচে নেমে আসে। এর ফলে দরজা খোলার ব্যবস্থা অচল হলেও যাত্রীদের বের হওয়ার বিকল্প সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চীনে শাওমির বৈদ্যুতিক গাড়ি জড়িত দুটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর গোপন দরজার হাতল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এসব দুর্ঘটনায় বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দরজা খোলা সম্ভব হয়নি বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিনো অটো ইনসাইটসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তু লে বলেন, ২০১৪ সাল থেকে টেসলার মডেল এস-এর আধুনিক ও মসৃণ নকশা দেখে চীনের অনেক গাড়ি নির্মাতা একই ধরনের গোপন দরজার হাতল ব্যবহার শুরু করে। তার মতে, সতর্কতামূলক লেবেল ও সফটওয়্যার হালনাগাদ সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়; এগুলো অনেকটা সাময়িক ব্যবস্থা।
২০২৭ সাল থেকে বদলাবে নিয়ম
চীনা কর্তৃপক্ষ গত ফেব্রুয়ারিতে গোপন দরজার হাতল নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়। নতুন নিয়ম ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
এরপর চীনে বিক্রি হওয়া গাড়ির দরজার ভেতরে ও বাইরে যান্ত্রিকভাবে খোলার ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক হবে। অর্থাৎ, গাড়ির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা অচল হয়ে গেলেও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দরজা খোলা যাবে।
এসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬