ভাদ্রের তীব্র গরমে শরীর জুড়াতে ডাবের পানির চাহিদা বেড়েছে। আর বাড়তি চাহিদা ও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে ডাবের দামও। কয়েক দিন আগেও যে ছোট আকারের ডাব ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম উঠেছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। বড় আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি, লালবাগ ও আশপাশের এলাকার ডাবের দোকান ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের এ সময়ে বাজারে ডাবের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে ডাব কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র গরমে বাড়তি চাহিদা। সরবরাহ ও চাহিদার এই দুই ধরনের চাপেই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।
নিউমার্কেট এলাকার ডাব বিক্রেতা আনিছ মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগেও ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় যে ডাব বিক্রি করেছেন, এখন তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন। কারণ আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, গরমের কারণে মানুষ এখন বেশি ডাব কিনছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলে দাম এতটা বাড়ত না।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ডাবের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। পথচারী, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তৃষ্ণা মেটাতে ডাব কিনছেন।
লালবাগের বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি অসুস্থ বাবাকে প্রায়ই ডাব খাওয়ান। দুই-তিন দিন আগে মাঝারি আকারের একটি ডাবের দাম ২০০ টাকা এবং বড় আকারের ডাবের দাম ২৫০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। অথচ কিছুদিন আগেও এসব ডাব সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।
লালবাগের পলাশী এলাকার ক্রেতা হাবিবুল ইসলাম বলেন, আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় যে ডাব পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। তবে গরমের কারণে ডাবের পানি খাওয়ার ইচ্ছা হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা বলেন, একটি ডাবের দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত ডাব খাওয়া কঠিন। চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক হলেও দাম এতটা বেড়ে গেলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ পড়ে।
বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ানোর জন্য নিজেদের দায়ী করতে নারাজ। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে ডাব কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
অ্যালিফ্যান্ট রোড এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, ডাব কেনার দামের সঙ্গে পরিবহন, দোকান ভাড়া ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও যুক্ত থাকে। ডাব বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। কিছু ডাব নষ্ট হলে সেই ক্ষতিও ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয়।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাবের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে গরমে চাহিদা কতটা থাকবে এবং বাজারে সরবরাহ কী পরিমাণ বাড়বে, তার ওপরই দাম অনেকটা নির্ভর করবে।
অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাহিদা বেড়ে গেলে দাম বাড়ে। ডাবের বাজারেও বর্তমানে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমতে পারে।
তীব্র গরমে ডাবের চাহিদা বাড়লেও চড়া দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। শরীর জুড়াতে ডাব কিনতে গিয়ে তাই পকেটের উত্তাপও টের পাচ্ছেন ক্রেতারা।
এসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬