গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

মেনু

গরমে বাড়ছে ডাবের চাহিদা, একটির দাম ২২০ টাকা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:০০ পিএম, ২৫ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৫৯ এএম ২০২৬
গরমে বাড়ছে ডাবের চাহিদা, একটির দাম ২২০ টাকা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভাদ্রের তীব্র গরমে শরীর জুড়াতে ডাবের পানির চাহিদা বেড়েছে। আর বাড়তি চাহিদা ও বাজারে সরবরাহ কম থাকায় বেড়েছে ডাবের দামও। কয়েক দিন আগেও যে ছোট আকারের ডাব ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম উঠেছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। বড় আকারের ডাব বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ টাকায়।

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডি, লালবাগ ও আশপাশের এলাকার ডাবের দোকান ও ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মৌসুমের এ সময়ে বাজারে ডাবের সরবরাহ তুলনামূলক কম। ফলে পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে ডাব কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র গরমে বাড়তি চাহিদা। সরবরাহ ও চাহিদার এই দুই ধরনের চাপেই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

নিউমার্কেট এলাকার ডাব বিক্রেতা আনিছ মিয়া বলেন, কয়েক দিন আগেও ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় যে ডাব বিক্রি করেছেন, এখন তা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকার নিচে বিক্রি করা কঠিন। কারণ আড়ত থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, গরমের কারণে মানুষ এখন বেশি ডাব কিনছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলে দাম এতটা বাড়ত না।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত ডাবের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। পথচারী, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তৃষ্ণা মেটাতে ডাব কিনছেন।

লালবাগের বাসিন্দা মুক্তার হোসেন বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি অসুস্থ বাবাকে প্রায়ই ডাব খাওয়ান। দুই-তিন দিন আগে মাঝারি আকারের একটি ডাবের দাম ২০০ টাকা এবং বড় আকারের ডাবের দাম ২৫০ টাকা চাওয়া হয়েছিল। অথচ কিছুদিন আগেও এসব ডাব সর্বোচ্চ ১৫০ থেকে ১৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেত।

লালবাগের পলাশী এলাকার ক্রেতা হাবিবুল ইসলাম বলেন, আগে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় যে ডাব পাওয়া যেত, এখন সেটির দাম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। তবে গরমের কারণে ডাবের পানি খাওয়ার ইচ্ছা হওয়ায় বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা বলেন, একটি ডাবের দাম ২০০ টাকার কাছাকাছি হলে সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত ডাব খাওয়া কঠিন। চাহিদা বাড়া স্বাভাবিক হলেও দাম এতটা বেড়ে গেলে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর চাপ পড়ে।

বিক্রেতারা অবশ্য দাম বাড়ানোর জন্য নিজেদের দায়ী করতে নারাজ। তাদের দাবি, পাইকারি বাজারে বেশি দামে ডাব কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়াতে হচ্ছে।

অ্যালিফ্যান্ট রোড এলাকার এক বিক্রেতা বলেন, ডাব কেনার দামের সঙ্গে পরিবহন, দোকান ভাড়া ও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও যুক্ত থাকে। ডাব বেশিদিন সংরক্ষণ করা যায় না। কিছু ডাব নষ্ট হলে সেই ক্ষতিও ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয়।

বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাবের সরবরাহ বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে গরমে চাহিদা কতটা থাকবে এবং বাজারে সরবরাহ কী পরিমাণ বাড়বে, তার ওপরই দাম অনেকটা নির্ভর করবে।

অর্থনীতির সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি চাহিদা বেড়ে গেলে দাম বাড়ে। ডাবের বাজারেও বর্তমানে একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক ও বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকলে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমতে পারে।

তীব্র গরমে ডাবের চাহিদা বাড়লেও চড়া দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। শরীর জুড়াতে ডাব কিনতে গিয়ে তাই পকেটের উত্তাপও টের পাচ্ছেন ক্রেতারা।

এসি/আপ্র/২৫/০৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সরকারের ৬ মাস: ১২ সূচকে স্বস্তি, ১৯টিতে গভীর শঙ্কা
২৪ আগস্ট ২০২৬

সরকারের ৬ মাস: ১২ সূচকে স্বস্তি, ১৯টিতে গভীর শঙ্কা

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ছয় মাসে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের বৈপরীত্য ফুটে...

১৪ দিনেই ব্যবসার লাইসেন্স, আসছে আরো সুবিধা
২৩ আগস্ট ২০২৬

১৪ দিনেই ব্যবসার লাইসেন্স, আসছে আরো সুবিধা

দেশে ব্যবসা শুরু ও বিনিয়োগের অনুমোদন বা লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করতে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসায়ি...

সোনার দাম এক ধাক্কায় ভরিতে বাড়লো ৫৪৮২ টাকা
২২ আগস্ট ২০২৬

সোনার দাম এক ধাক্কায় ভরিতে বাড়লো ৫৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণ...

যে সাত ধরনের আয় থাকলে রিটার্নে দেখাতে হবে
২০ আগস্ট ২০২৬

যে সাত ধরনের আয় থাকলে রিটার্নে দেখাতে হবে

আয়কর রিটার্নে করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য উল্লেখ করতে হয়। একজন করদাতার বিভিন্ন উৎসের আয় নির...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে