আয়কর রিটার্নে করদাতার আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য উল্লেখ করতে হয়। একজন করদাতার বিভিন্ন উৎসের আয় নির্ধারিত খাতে দেখানোর নিয়ম রয়েছে। তবে কোনো খাতে আয় থাকলেই যে আয়কর দিতে হবে, এমন নয়; রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আয় ও আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ পুরুষ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। নারী ও ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতার জন্য এ সীমা ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তৃতীয় লিঙ্গ ও প্রতিবন্ধী করদাতার ক্ষেত্রে সীমা ৫ লাখ টাকা। গেজেটেড যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
রিটার্নে সাধারণত নিচের সাত খাতের আয় দেখাতে হয়—
১. চাকরি থেকে আয়
বেতন, ভাতা, বোনাসসহ চাকরি থেকে পাওয়া আয় এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
২. ভাড়া থেকে আয়
বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান বা অন্যান্য সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে পাওয়া আয় এ খাতে দেখাতে হয়।
৩. কৃষি থেকে আয়
কৃষিকাজ, ফসল উৎপাদন ও কৃষিসংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম থেকে পাওয়া আয় এ খাতের অন্তর্ভুক্ত।
৪. ব্যবসা থেকে আয়
ব্যবসা, পেশা বা বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে অর্জিত আয় এ খাতে দেখাতে হয়।
৫. মূলধনি আয়
সম্পদ বা বিনিয়োগ বিক্রি করে লাভ হলে তা মূলধনি আয়ের আওতায় পড়তে পারে।
৬. আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়
ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা ও সিকিউরিটিজসহ আর্থিক সম্পদ থেকে পাওয়া আয় এ খাতে অন্তর্ভুক্ত।
৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়
রয়্যালটি, লাইসেন্স ফি, সম্মানী ও বিভিন্ন ধরনের ফিসহ নির্ধারিত অন্যান্য আয় এ খাতে দেখাতে হয়।
তবে সাতটি খাতের কোনো একটিতে আয় থাকলেই যে কর দিতে হবে, তা নয়। রিটার্ন দাখিল করা এবং আয়কর পরিশোধ করা দুটি আলাদা বিষয়। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলেও আইনে নির্ধারিত বিশেষ কোনো শর্তের কারণে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক হতে পারে।
যেমন—আগের তিন বছরের কোনো বছরে কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে, ফার্মের অংশীদার হলে, কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা কর্মচারী হলে, সরকারি কর্মচারী হলে কিংবা আইনে নির্ধারিত অন্য কোনো ক্ষেত্রে আয় কম হলেও রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে।
এ ছাড়া রিটার্নে আয় দেখানোর ক্ষেত্রে যথাযথ কাগজপত্র ও প্রমাণ সংরক্ষণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এসি/আপ্র/২০/০৮/২০২৬