বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে সরকারি খাস জমিতে বসবাসকারী স্বজনহীন ও নিঃসন্তান এক বিধবা নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম পালটি দাস (৫০)। আজ সকালে বদরগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম বালুয়াভাটা গ্রামের নিজ কুঁড়েঘর থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে পালটি দাসকে হত্যা করে তাঁর মরদেহ ঘরের আড়ায় ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, এমন সন্দেহের কথা জানানো হলেও পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য না পাঠিয়েই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পালটি দাসের পৈতৃক বাড়ি জামুবাড়ী পাখিহানা গ্রামে। প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি পশ্চিম বালুয়াভাটা এলাকায় সরকারি খাস জমিতে একটি কুঁড়েঘর তুলে একাকী বসবাস করছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং একা একা কথা বলতেন। তবে কারও সঙ্গে তাঁর ঝগড়া-বিবাদ ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে পালটি দাস প্রতিবেশীদের কাছে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, তাঁকে হত্যা করে তাঁর ভিটা দখল করা হতে পারে। তবে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে করে কেউ তাঁর কথাকে গুরুত্ব দেননি।
ঘটনার দিন সকালে পালটি দাস নাস্তা করতে কাছের বালুয়াভাটা রেলওয়ে গুমটি এলাকায় যান। কিছুক্ষণ পর তিনি নিজ ঘরে ফিরে আসেন। এর অল্প সময় পর স্থানীয়রা ঘরের ভেতর ফাঁসিতে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ দেখতে পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, পালটি দাসের কোনো নিকটাত্মীয় বা সন্তান না থাকায় একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে তাঁর বসতভিটা দখলের চেষ্টা করছিল। তাঁদের ধারণা, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হতে পারে। স্বজনহীন হওয়ায় ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইছেন না বলেও জানান তাঁরা।
খবর পেয়ে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে হত্যার অভিযোগ ওঠার পরও মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়নি।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার বলেন, পালটি দাস মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তাঁর কোনো দাবিদার বা স্বজন না থাকায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না আসায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়নি।
একাকী ও অসহায় এক বিধবার এমন রহস্যজনক মৃত্যু এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তরের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সানা/আপ্র/২০/৮/২০২৬