আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় এবারের ভোটকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিকে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের নির্বাচন ঐতিহাসিক। তিনি সুন্দর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে তাঁর মেয়াদ শেষ হলে এমন আগ্রহ তৈরি হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস তুলে ধরে সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে আর এমন নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘদিন পর এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের এ ধরনের নির্বাচন পরিচালনার প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ঘাটতি না রাখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনায় ১৯৯১ সালের আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ: নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই এবং ১৮ আগস্ট ছিল প্রত্যাহারের শেষ দিন।
নির্বাচনি কর্তা জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে দুটি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে একটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হলেও কেউ মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ।
প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় ব্যবহৃত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানান সিইসি।
ভোট গ্রহণের প্রস্তুতিতে সংসদ সচিবালয়ের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সচিবালয়ের অধিবেশন চলাকালে ফ্লোরের দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারাও ভোট গ্রহণে সহযোগিতা করবেন। সংসদ ভবনের আসন বিন্যাস সংসদীয় আসনের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী না হওয়ায় বিভক্তি নম্বর ধরে আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ভোটের শুরু ও গণনা সরাসরি সম্প্রচার: রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিইসি জানান, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে ভোটের শুরুতে এ অংশ সরাসরি সম্প্রচার করা হতে পারে। ভোট গ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। বিকেল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে।
ভোট গ্রহণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা করা হবে এবং নির্বাচনি কর্তা হিসেবে সিইসি সেখানেই ফল ঘোষণা করবেন। কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার ও অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন-সব তথ্য বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। পরে নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।
ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো প্রচার-প্রচারণা করা যাবে না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছেন সিইসি।
সানা/আপ্র/২০/৮/২০২৬