সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে তাঁকে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
তাঁর আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার বিকেলে খায়রুল হককে কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত গত সোমবার খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখার পর তাঁর কারামুক্তির পথ খুলে যায়। হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তী জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ‘নো অর্ডার’ দেন।
খায়রুল হকের আইনজীবীরা জানান, সাবেক এই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে এবং সবকটি মামলাতেই তিনি জামিন পেয়েছেন। এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে অন্য কোনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখানো না হওয়ায় কারামুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা ছিল না।
যে মামলায় সর্বশেষ জামিন: রেস্টুরেন্টকর্মী উজ্জ্বল মিয়াকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর মামলা করা হয়। তবে ওই মামলা দায়েরের অনেক আগেই, ২০২৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে কারাগারে ছিলেন খায়রুল হক।
গত ১৭ মে হাইকোর্ট তাঁকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেফতার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেন। ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে গত ৯ আগস্ট প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ তা নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন।
এর পরদিন বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ হত্যাচেষ্টা মামলায় খায়রুল হককে জামিন দেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করলেও চেম্বার আদালতে তাতে কোনো আদেশ হয়নি।
যেভাবে গ্রেফতার হয়েছিলেন: দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান এ বি এম খায়রুল হক। ওই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসরে যান।
২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাঁকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। মেয়াদ শেষে কয়েক দফা তাঁকে ওই পদে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আট দিন পর, ১৩ আগস্ট আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
এরপর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন। বুধবার সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর প্রায় ১৬ মাস পর কারামুক্ত হলেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৯/৮/২০২৬