গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

মেনু

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান জানালেন কোনো চাপের মধ্যে নেই

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪৮ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২১:৩৫ এএম ২০২৬
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান জানালেন কোনো চাপের মধ্যে নেই
ছবি

প্রথম দিন দুদক কার্যালয়ে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সামনে আসেন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান ও অপর দুই সদস্য -ছবি সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেছেন, কোনো ধরনের চাপের মধ্যে নেই তারা এবং স্বাধীনভাবেই কাজ করছেন। মানুষের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশের দুর্নীতি দূর করতে যথাযথ চেষ্টা করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

১৬৬ দিন নেতৃত্বশূন্য থাকার পর আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বুধবার (১৯ আগস্ট) নতুন কমিশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে নতুন দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াও প্রথম কার্যদিবসে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যান।

সকাল ১০টা থেকে দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা করেন তারা। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নতুন চেয়ারম্যান।

এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা যেন মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করে, প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশের জন্য কাজ করতে পারি। দুদকের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে পারি। দেশ থেকে দুর্নীতি মুক্ত করার যথোপযুক্ত চেষ্টা করতে পারি।’

রাজনৈতিক সরকারের সময়ে দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি-এমন সমালোচনার বিষয়ে নতুন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আমরা কোনো চাপের মধ্যে নেই। আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করছি।’

নিয়োগ নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আসাদুজ্জামান বলেন, তদবির বা বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি দুদকের চেয়ারম্যান হননি। নিয়োগ নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছেন, তাদেরও ব্যর্থতা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আগের কমিশনের শুরু করা অনুসন্ধান ও মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বিভিন্ন অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের অনিয়মের অভিযোগ এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে জমা পড়া অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে এখনো ওইরকম কোনো ফাইল আসে নাই। আমরা বসছি কেবল। আসুক, আমরা যা করবো আপনারা নিজেরাই দেখতে পাবেন। এসব নিয়ে আগাম কথা বলতে চাই না।’

শেখ হাসিনাসহ আগের সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধান, মামলা এবং অভিযোগপত্রের অপেক্ষায় থাকা মামলাগুলোর বিষয়েও একই কথা বলেন তিনি। বিদেশে থাকা আসামিদের ফিরিয়ে আনা এবং পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে হবে। কমিশন কাজ শুরু করার পর এসব বিষয়ে জানানো হবে।

দুদকের নতুন কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ‘বৃক্ষ তোমার নাম কী, ফলে পরিচয়।’ অপর কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে প্রতিটি বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের করণীয় এবং তাদের সম্পৃক্ত করার বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের আপাতত অপেক্ষা করে কমিশন কী করছে তা দেখা উচিত। তার ভাষায়, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে, তারা হতাশ হবেন না।

গত ৩ মার্চ দুদকের আগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। ৪ মার্চ থেকে চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য ছিল। ফলে নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত, মামলা দায়ের, তদন্ত প্রতিবেদন ও অভিযোগপত্র অনুমোদন, সম্পদ জব্দ এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম আটকে ছিল।

নতুন কমিশন গঠনের জন্য গত ২২ জুন পাঁচ সদস্যের বাছাই কমিটি গঠন করে সরকার। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটির সুপারিশের পর এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান এবং সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম খান ও ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যোগ দেন এবং বুধবার দুদকে প্রথম কার্যদিবস শুরু করেন।

দুদক আইন অনুযায়ী, যোগ দেওয়ার দিন থেকে চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন চেয়ারম্যানের পরিচয়: এ কে এম আসাদুজ্জামান ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে হাই কোর্ট এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাই কোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।

দুই কমিশনারের পরিচয়: জাহাঙ্গীর আলম খান বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং পরে পিএইচডি করেন। কর্মজীবনে ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছেন।

অপর কমিশনার মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য এবং ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিন্যান্সে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়া সাজ্জাদ হোসেন কর্মজীবনের শুরুতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ ও এবি ব্যাংকে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ, ব্যাংকিং ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগ এবং আইবিএতেও শিক্ষকতা করেছেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৯/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রাষ্ট্রপতি ভোটের আগে বিদায়ী বক্তব্য কাঁদলেন মির্জা ফখরুল
১৯ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি ভোটের আগে বিদায়ী বক্তব্য কাঁদলেন মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এক দিন আগে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় আবেগঘন বিদায়ী বক্তব্য দিয়েছেন দলটির সদ্য স...

সব মামলায় জামিন, কারামুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক
১৯ আগস্ট ২০২৬

সব মামলায় জামিন, কারামুক্ত সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক সব মামলায় জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। বুধবা...

আগামী বছরের এসএসসি মার্চে শুরুর চিন্তা শিক্ষা প্রশাসনের
১৯ আগস্ট ২০২৬

আগামী বছরের এসএসসি মার্চে শুরুর চিন্তা শিক্ষা প্রশাসনের

আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে মার্চে পরীক্ষা নেওয়া...

তারেক রহমানের ভারত সফরে শর্ত নিয়ে বীণা সিক্রির আপত্তি
১৯ আগস্ট ২০২৬

তারেক রহমানের ভারত সফরে শর্ত নিয়ে বীণা সিক্রির আপত্তি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্র...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপি সরকারের ছয় মাস: প্রত্যাশা কতটা, প্রাপ্তি কতখানি

আজ ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এর আগে ছয় মাসের কাজের মূল্যায়নে সরকার যেমন বেশ কিছু অর্জনের কথা বলছে, তেমনি বিরোধী রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নাগরিকদের প্রশ্নও সামনে এসেছে। সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, ছয় মাসের লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সব কর্মসূচিই পূরণ হয়েছে-কোথাও ৯০, কোথাও ৯৫ এবং কোথাও শতভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে। প্রিয় পাঠক, সরকার ভালো করছে নাকি মন্দ করছে? হ্যাঁ বা না জানান।

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে