মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ইরান থেকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। পরে মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র দুটি সমুদ্রপথে চলাচলকারী নৌযানকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। তবে দুটিই সাগরে গিয়ে পড়ে এবং আমিরাতের ভূখণ্ডে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মে মাসের ৪ তারিখ ফুজাইরাহ বন্দরে হামলার পর আমিরাতের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগ এটিই প্রথম। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। পরে পরিস্থিতি নিরাপদ জানিয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আমিরাতের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। বুধবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই আমিরাতের বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেন। অর্থাৎ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত।
ঘটনার পর ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য কার্যক্রম, বাণিজ্যিক বিনিময় ও আর্থিক লেনদেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে আমিরাত জানিয়েছে, তারা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সংলাপের পথকে সমর্থন করলেও নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে ঘোষিত সাময়িক শান্তি উদ্যোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সোমবার ৬০ দিনের শান্তি আলোচনার সময়সীমা কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বা নির্ধারিতও নেই। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের দাবি অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। গত সপ্তাহে আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি জাতীয় তেল কোম্পানির একাধিক নৌযানে হামলার অভিযোগ ওঠে। আমিরাত এসব ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করলেও তেহরান দায় স্বীকার করেনি। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী এর আগে সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী কোনো জাহাজ তেহরানের বিরোধীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলে বা ইরানের নির্দেশনা অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রের এই নতুন ঘটনা শুধু ইরান ও আমিরাতের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্যও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ অবস্থায় আমিরাত-ইরান উত্তেজনা আরো ছড়িয়ে পড়লে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা সংকট গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কূটনৈতিক সমাধানের পথ যত সংকুচিত হবে, ততই সামরিক উত্তেজনা এবং তার অর্থনৈতিক অভিঘাত পুরো অঞ্চলের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক বাজারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। সূত্র: রয়টার্স।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৯/৮/২০২৬